শাহরুখ কি সত্যিই বলিউডের শেষ সুপারস্টার? বিস্ফোরক মন্তব্যে জল্পনা বাড়ালেন বর্ষীয়ান অভিনেতা অনু কাপুর!

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের বহুচর্চিত ‘শেষ তারকা’ বা সুপারস্টার তকমা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ নিজে বিনীতভাবে নিজেকে বলিউডের ‘শেষ সুপারস্টার’ বলে দাবি করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে ভক্ত ও সমালোচকদের মধ্যে যেমন নিরবচ্ছিন্ন চর্চা চলেছে, তেমনই বর্তমান প্রজন্মের ওটিটি বিপ্লব ও বদলাতে থাকা দর্শকদের মানসিকতার যুগে ‘ওল্ড স্কুল’ স্টারডমের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর ও হাই-ভোল্টেজ মুহূর্তে এই গোটা বিতর্ক নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ও বিস্ফোরক মতামত প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট বর্ষীয়ান অভিনেতা অনু কাপুর।
শাহরুখ খানের এই দাবির তীব্র দ্বিমত পোষণ করে অনু কাপুর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কিং খান মোটেই বলিউডের ‘শতাব্দীর শেষ তারকা’ নন। তাঁর সুচিন্তিত মতে, চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো একক বা নির্দিষ্ট অভিনেতাকেই সর্বকালের ‘শেষ তারকা’ বা শেষ কথা বলে চিহ্নিত করা যায় না। কারণ অতীতেও ঠিক এই একই ধরনের গ্ল্যামারাস তকমা রাজেশ খান্না সহ একাধিক কিংবদন্তি অভিনেতাকে ঘিরে প্রচলিত হয়েছিল। কিন্তু কালপ্রবাহের নিয়মে সময় বদলেছে, রূপোলি পর্দার সিনেমার ধরন পাল্টেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রি বরাবরই নতুন নতুন তারকা উপহার দিয়েছে। আগামী দিনেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলেই দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন প্রবীণ এই অভিনেতা। তথ্যগতভাবে উল্লেখ্য, অনু কাপুর ও শাহরুখ খান অতীতে ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ছবি ‘ডর’-এ একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
সম্প্রতি একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে কুণ্ঠাহীনভাবে মুখ খুলে অনু কাপুর বলেন যে, গত কয়েক দশক ধরে বিনোদন জগতে নিজেদের তারকাখ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রাসঙ্গিক থাকতে পেরেছেন এমন মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। এই সারিতে তিনি অবশ্যই অমিতাভ বচ্চন, লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের মতো জীবন্ত কিংবদন্তিদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করেন। এরপরই নাম না করে সরাসরি শাহরুখ খানের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই নির্দিষ্ট অভিনেতার চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয়েছে ১৯৯২ সালে এবং তিনি বড় পর্দায় মাত্র ৩৪ বছর অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, আরও দীর্ঘ দুই দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পর ২০৪৫ সালেও কি তিনি ঠিক একইভাবে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবেন, যেভাবে মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন আজও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের আসন অটুট রেখেছেন? সংশয়ের সুরে অনু কাপুর সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেন, “আমার ব্যক্তিগতভাবে এমনটা মনে হয় না।”
তবে কিং খানের এই দাবির জোরালো বিরোধিতা করলেও, অনু কাপুর কিন্তু একবিন্দু অস্বীকার করেননি যে বিশ্বজুড়ে শাহরুখ খানের অগণিত ভক্ত রয়েছে এবং বাণিজ্যিক দিক থেকে তিনি একজন অত্যন্ত সফল অভিনেতা। শাহরুখের অসামান্য ব্যক্তিত্ব, চুম্বকীও ক্যারিশমা বা তাঁর অভিনয়ের মুন্সিয়ানা—কোনো কিছুকেই অনুরাগীরা বা তিনি নিজে উপেক্ষা করতে পারেন না। কিন্তু পাশাপাশি নিজের তত্ত্বে অটল থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে “তারকা আসে এবং যায়।” সুতরাং সময়ের স্রোতে কেউই কখনও একচ্ছত্রভাবে ইন্ডাস্ট্রির ‘শেষ তারকা’ হয়ে থেকে যেতে পারেন না।
উল্লেখ্য, এই বিতর্কের আবহের মাঝেই অনুরাগীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শাহরুখ খানের আসন্ন মেগা প্রজেক্ট ‘কিং’ ছবির জন্য। পরিচালক সুজয় ঘোষের এই বহুল প্রতীক্ষিত অ্যাকশন থ্রিলার ছবিতে বড় পর্দায় প্রথমবার একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে চলেছেন শাহরুখ খান ও তাঁর কন্যা সুহানা খান। শুধু তাই নয়, বাবা-মেয়ে জুটির পাশাপাশি এই হাই-প্রোফাইল সিনেমাটিতে যিশু সেনগুপ্ত, দীপিকা পাড়ুকোন এবং অনিল কাপুরের মতো তাবড় তাবড় অভিনয়শিল্পীদের এক ফ্রেমে দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সিনেমাপ্রেমীরা।