পুরোনো ভুল ঝেড়ে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই! গলে পা রেখেই জাতীয় পতাকা তুলে কী বার্তা দিল টিম ইন্ডিয়া?

দেশজুড়ে যখন ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আনন্দে মেতে উঠেছে গোটা দেশ, ঠিক তখনই সমুদ্রের ওপারে শ্রীলঙ্কার মাটিতে এক নতুন লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ভারতীয় ক্রিকেট দল। অতীতের সমস্ত ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এক নতুন ভারতকে সামনে আনার কঠিন পণ নিয়েছে শুবমান গিল অ্যান্ড কোং। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গলে আয়োজিত সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতীয় দলের তরুণ অধিনায়ক শুবমান গিল।
ম্যাচ শুরুর আগে বিদেশ বিভুঁইয়ে দেশের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানিয়ে এক অভিনব মুহূর্ত তৈরি করে টিম ইন্ডিয়া। হোটেলের প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি কোচের দায়িত্বে থাকা গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুবমানের উপস্থিতিতে খেলোয়াড়রা সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলান। এরপরই মাঠে নেমে নিজেদের সেরাটা উজার করে দেওয়ার মানসিকতা দেখায় ভারতীয় শিবির। বিশেষ করে, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে স্পিন বোলিংয়ের মোকাবিলা করতে গিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের হতশ্রী পারফরম্যান্স ক্রিকেট মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার এই স্পিন-সহায়ক পিচে কিংবদন্তি রঙ্গনা হেরাথ ও মুত্তিয়া মুরলীধরনের উত্তরসূরি লঙ্কান স্পিনারদের সামলানোই এখন টিম ইন্ডিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচের জন্য ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক যে চূড়ান্ত একাদশ বেছে নিয়েছে, তাতে দলের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের এই শক্তিশালী একাদশে জায়গা পেয়েছেন—কেএল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল, দেবদত্ত পাডিক্কল, অধিনায়ক শুবমান গিল নিজেই, উইকেটকিপার ব্যাটার ঋষভ পন্থ, ধ্রুব জুরেল, অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা, মানব সুথার, কুলদীপ যাদব, পেসার মহম্মদ সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। তারকা পেসার জসপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব থাকছে সিরাজ ও প্রসিদ্ধের কাঁধে, আর স্পিন বিভাগ সামলাবেন জাদেজা, কুলদীপ ও মানব।
অধিনায়ক হিসেবে শুবমান গিলের সামনে এটি একটি অন্যতম বড় ও কঠিন পরীক্ষা। স্বাধীনতা দিবসের এই পবিত্র দিনে কোটি কোটি দেশবাসীর প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে তাঁকে মাঠে নামতে হয়েছে। শ্রীলঙ্কাকে তাদের নিজেদের মাটিতে কুপোকাত করতে হলে ভারতীয় দলকে কেবলমাত্র আক্রমণাত্মক মানসিকতাতেই খেললে চলবে না, বরং শৃঙ্খলিত ব্যাটিং ও নিখুঁত ফিল্ডিংয়ের পরিচয় দিতে হবে। বিশেষ করে উপমহাদেশের শ্লথ পিচে স্লিপ বা কাছাকাছি এলাকার ফিল্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্বাধীনতার দিনে গিলের নেতৃত্বাধীন দল এই কঠিন বৈতরণী পার করে জয়ের সরণীতে ফিরতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।