জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানাতে সময় লাগল ছ’মিনিট! রামপুরের মাটিতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ইতিহাস গড়ল জওহর বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের রামপুরের বিখ্যাত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অভূতপূর্ব ও বর্ণাঢ্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। অত্যন্ত জাঁকজমক এবং দেশপ্রেমের জোয়ারে ভেসে প্রতিষ্ঠানটি এবছর স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে। এই বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনটিকে আরও বেশি স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত উত্তরপ্রদেশের সবচেয়ে উচুঁ এবং সুবিশাল ২২০ ফুট উঁচুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশের ত্রিবর্ণ পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জহিরউদ্দিন একটি বিশেষ রিমোটের বোতাম টিপে এই বিশাল মোটরচালিত জাতীয় পতাকাটি উত্তোলনের শুভ সূচনা করেন। সুবিশাল এই পতাকাদণ্ডের ঠিক ২২০ ফুট উচ্চতায় তেরঙ্গা পতাকাকে সম্পূর্ণ মহিমায় উড়তে দেখতে এবং পৌঁছাতে প্রায় ছয় মিনিট সময় লেগেছিল। যখন পতাকাটি ধীরে ধীরে আকাশের দিকে উঠতে শুরু করে, তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক ও গর্বের অনুভূতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পতাকা উত্তোলনের ঠিক পরপরই মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা একসুরে সমস্বরে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে দেশের ত্রিবর্ণ পতাকাকে সসম্মানে অভিবাদন জানান। তরুণ প্রজন্মের মুখে দেশপ্রেমের উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা সেদিন এক অন্য মাত্রা পেয়েছিল। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্রছাত্রী, অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রামপুরের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে সফল করে তোলেন।
অনুষ্ঠানে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক জহিরউদ্দিন উপস্থিত সকলকে ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে এই বিশাল পতাকাদণ্ডের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন যে, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশিষ্ট নেতা মোহাম্মদ আজম খান এই সুউচ্চ ২২০ ফুট উঁচু জাতীয় পতাকাটি স্থাপন করেছিলেন, যা আজ উত্তরপ্রদেশের সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র দেশের নজর কেড়েছে।
অধ্যাপক জহিরউদ্দিন অত্যন্ত গর্বের সুরে আরও উল্লেখ করেন যে, এই ২২০ ফুট উঁচুতে উড়তে থাকা জাতীয় পতাকাটি শুধুমাত্র রামপুরের জন্যই নয়, বরং সমগ্র উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের কাছে এক অপার গৌরবের প্রতীক। দেশের এই মহান উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন অগ্রগতি বজায় রাখতে দেশের যুবসমাজকে নিজেদের সেরা অবদান রাখার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।