নীল সমুদ্রে ভাসল ওয়াংখেড়ে, দৃষ্টিহীন শিশুদের স্বপ্নপূরণে রিলায়েন্সের মানবিক উদ্যোগ!

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বার্ষিক ‘এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস ফর অল’ (ESA) ম্যাচ বরাবরই ক্রিকেট মাঠের আবেগকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু এবারের আসর ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে যেন এক অন্য পৃথিবী তৈরি হয়েছিল। ২০,০০০-এরও বেশি শিশুর কলরবে মুখর হয়ে উঠেছিল গ্যালারি। মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা—মুম্বই, সাতারা, নাসিক, ভালসাদ ও ইগাতপুরীর মতো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা এই শিশুদের ক্রিকেট মাঠে নিয়ে আসার পেছনে ছিল রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, যার নেপথ্যে রয়েছেন নীতা আম্বানি।

এবারের ESA ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রথমবারের মতো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ডের শিশুদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নীতা আম্বানির। আইপিএল মরশুমের শুরুতেই শিশুরা তাঁর কাছে স্টেডিয়ামে খেলা দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ নীতা আম্বানি বলেন, “শিশুদের এই অকৃত্রিম আনন্দ অনুভব করা সত্যিই অসাধারণ। প্রতিটি শিশু যেন নিজেদের মূল্যবান মনে করে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পরিসর অবিশ্বাস্য। নীতা আম্বানি, যিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) সদস্যও বটে, জানিয়েছেন যে তাঁদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে ভারতের ২৮টি রাজ্যে ২ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি শিশু ও তরুণের কাছে পৌঁছেছে। তাঁদের লক্ষ্য শুধু ক্রিকেট নয়, বরং অ্যাথলেটিক্স ও ফুটবলের মতো বিভিন্ন খেলায় উচ্চ পারফরম্যান্স কেন্দ্র গড়ে তোলা। আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞান ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভারতের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

এই বিশাল অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়ন কোনো ছোট কৃতিত্ব নয়। এর পেছনে ছিল কয়েক হাজার মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শিশুদের আনতে ৫৫০টিরও বেশি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। মাঠে শিশুদের সহায়তা করতে সক্রিয় ছিল ২,৪০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক। স্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্বে ছিল ১০০-এরও বেশি চিকিৎসাকর্মী। শিশুদের জন্য ৯২,০০০ খাবারের বাক্স সরবরাহ করা হয়। নিরাপত্তা ও যানজট সামলাতে ৫৫০ ট্রাফিক অফিসার এবং ৪৫০-এরও বেশি পুলিশকর্মী দিনভর কাজ করেছেন। ৪০টিরও বেশি এনজিও এবং ধীরুভাই আম্বানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যৌথ সহযোগিতায় এই দিনটি হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় অধ্যায়। ওয়াংখেড়ের এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল যে, খেলাধুলার মাধ্যমেই এক উজ্জ্বল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের পথ তৈরি সম্ভব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy