‘তৎকাল বিজেপি’ বনাম স্বরূপ-পন্থী! টলিপাড়ার দখল নিয়ে ধুন্ধুমার লড়াই, রণক্ষেত্র স্টুডিও চত্বর

সরকার বদলের হাওয়া লেগেছে টলিপাড়ার অন্দরেও। সেই ধাক্কায় এবার নড়বড়ে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। মহিলা কমিশন থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদায় কিংবা ফেডারেশনের কুর্সি থেকে স্বরূপ বিশ্বাসের সরে যাওয়া—সব মিলিয়ে টলিপাড়ায় এখন শুধুই বদলের সুর। আর এই পরিবর্তনের আবহে ২৬টি গিল্ড-এর সভাপতি ও সম্পাদক পদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে শনিবার রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে উঠল টেকনিশিয়ান্স স্টুডিও।

অভিযোগের পাহাড় নিয়ে শনিবারই স্টুডিও চত্বরে হাজির হয়েছিলেন সহ-পরিচালক এবং একাধিক গিল্ডের সদস্যরা। তাঁদের নিশানায় ছিল অমিত সামন্ত, স্বরূপ বিশ্বাস ও মহম্মদ হাসানের মতো প্রভাবশালী নাম। প্রতিবাদীদের দাবি, এঁরা প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের ছায়াসঙ্গী এবং ইন্ডাস্ট্রিতে একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে কার্ড বিক্রি, অসাধু উপায়ে ঘনিষ্ঠদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং স্বজনপোষণই এখন গিল্ডের প্রধান কাজ। কাজ না পেয়ে বহু টেকনিশিয়ান যে দীর্ঘ দিন ধরে বসে আছেন, সেই ক্ষোভেই এই বিক্ষোভ।

এদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেছে প্রোডাকশন ম্যানেজার গিল্ড। সহ-সম্পাদক কৌশিক মণ্ডল ও সহকারী অভিজিৎ সাহা বিরোধীদের ‘তৎকাল বিজেপি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের দাবি, “৪ মে-র আগে যারা তৃণমূলে ছিলেন, তারাই এখন গেরুয়া ঝান্ডা ধরে আমাদের সংগঠন ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন।” সংগঠনের নেতৃত্বের দাবি, ২০১৮ সালে তাঁরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতামান নিশ্চিত করেছেন। গ্র্যাজুয়েট ও শিক্ষিত কলাকুশলীদের প্রাধান্য দেওয়াতেই পুরনো দুর্নীতির চক্র ভেঙেছে, যা মেনে নিতে পারছেন না স্বরূপ-পন্থী এই গোষ্ঠী।

আর্থিক তছরুপের অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলেছে গিল্ড। তাঁদের বক্তব্য, ফেডারেশনের সদস্যদের উপার্জনের ৭.৫ শতাংশ কেন ফেডারেশনকে দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলায় স্বরূপ বিশ্বাসের রোষানলে পড়েছেন মহম্মদ হাসান ও বাবাইরা। বাপি সান্যাল, সঞ্জয় গুহ-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এমনকি, অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষকেও পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সবশেষে দেবকে কার্ড দেওয়া প্রসঙ্গে বিতর্ক উসকে দিয়ে গিল্ডের দাবি, ধোনির মতো দেবকেও সম্মান জানিয়ে এই পদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে, টলিপাড়ার এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ‘ইলেকশন না সিলেকশন’—এই টানাপড়েনে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় কে!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy