“ছাত্রভোট করতে হবে!” যাদবপুরের রণক্ষেত্রের মাঝেই সৃজন ভট্টাচার্যের হুঙ্কারে তুঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে ফের একবার চরম উত্তেজনা ছড়াল গোটা দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে। বুধবার মধ্যরাতে ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (FETSU) সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে এসএফআই (SFI), ডিএসএফ (DSF) এবং এবিভিপি (ABVP) সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে হাতাহাতি ও হিংসাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর জহম হয়েছেন বলে খবর। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে অতর্কিতে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে এনে হামলা চালিয়েছে এবিভিপি সমর্থকরা। শুধু তাই নয়, পড়ুয়াদের আটকে রেখে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালানো এবং আগুন লাগানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে এবিভিপির পালটা দাবি, এসএফআই এবং বামপন্থী সংগঠনগুলি পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে এবং সংগঠনের সভাপতি নিখিল রায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এই হিংসাত্মক ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার দাবি তুলে বাম ও ডানপন্থী উভয় শিবিরই পালটা বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।