‘স্পেশাল ২৬’ ছবির কায়দায় হুবহু কান্ড! দিল্লির ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভুয়ো সিবিআই হানা ঘিরে চরম চাঞ্চল্য!

ছবির গল্পকেও হার মানাল বাস্তবের চিত্রনাট্য! অক্ষয় কুমারের জনপ্রিয় সিনেমা ‘স্পেশাল ২৬’-এর কায়দায় ঠিক তেমনই এক চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সিবিআই আধিকারিক সেজে দিল্লির রোহিনী এলাকার এক বিত্তশালী ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বানচাল হয়ে গেল এক ভুয়ো চক্রের দুরভিসন্ধি। পুলিশের তৎপরতা এবং বাড়ির লোকজনের চরম সতর্কতার জেরে বড়সড় প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেল ওই ব্যবসায়ী পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন সিবিআই (CBI) আধিকারিকের ছদ্মবেশে ৮ থেকে ১০ জনের একটি অচেনা দল আচমকাই ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির কড়া নাড়ে। গেট খুলেই তারা নিজেদের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করতে শুরু করে। কিন্তু শুরুতেই তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকে বাড়ির লোকজনের কাছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র বা তল্লাশির যথাযথ আইনি নথি দেখতে চান। অভিযোগ, সেই মুহূর্তে ওই ভুয়ো দলটির কাছে কোনো রকম সদুত্তর বা দাপ্তরিক কাগজ ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে নানা হুমকি দিয়ে ও প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যায়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং ওই দলটির ভনিতা সন্দেহজনক ঠেকায় আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। প্রতিবেশীরাও একযোগে ওই ভুয়ো আধিকারিকদের ঘিরে ধরে জোর গলায় তল্লাশির পরোয়ানা ও আইনি নথিপত্র দেখাতে বাধ্য করেন। জনতার জোরালো প্রতিবাদের মুখে পড়ে এবং নিজেদের কারসাজি ফাঁস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতেই ওই ভুয়ো দলটি পিছু হটে। তারা জানায় যে আসল কাগজপত্রগুলি বাইরে দাঁড় করানো গাড়ির ভেতরে রাখা আছে। সেই গাড়ি থেকে নথিপত্র আনার নাম করে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ভুয়ো সিবিআই দলের সদস্যরা।
তৎপরতা দেখিয়ে পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ১১২-তে ফোন করে সমস্ত বিষয়টি জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুয়ো আধিকারিক সেজে আসা ওই ব্যক্তিরা অত্যন্ত সুচারুভাবে সিবিআই-এর লোগোযুক্ত পোশাক পরে এসেছিল এবং নকল পরিচয়পত্রও দেখিয়েছিল। এমনকি ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সিবিআই ডিরেক্টরের নাম ও ভুয়া স্বাক্ষর সম্বলিত একটি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল ওই পরিবারকে। যদিও প্রতারকরা ধরা পড়ার ভয়ে পরবর্তীতে সেই চ্যাট বা নোটিশটি দ্রুত ডিলিট করে দেয়। তবে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের হাতে সেই মুছে ফেলা ডিজিটাল প্রমাণের কিছু অংশ তুলে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির চারপাশে লাগানো ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন বা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্ত ভুয়ো সিবিআই দলটির আসল পরিচয় কী এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই রোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।