কার্গিল দিবসে পাক-বক্সারকে হেলায় হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যদুমণি! সোনা জয়ের হুংকারে কাঁপছে গ্লাসগো

রবিবার কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর বক্সিং রিংয়ে এক দুর্দান্ত ও ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স উপহার দিলেন ভারতের দুই তারকা বক্সার যদুমণি সিং ও প্রীতি পাওয়ার। গ্লাসগোর এসইসি সেন্টারের উত্তেজনাময় ও রোমাঞ্চকর পরিবেশে পুরুষদের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ সুমামা রহমানকে সর্বসম্মত ৫-০ ব্যবধানে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় সেনা বাহিনীর এই কৃতি বক্সার। ম্যাচের শুরুতেই পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে লক্ষাধিক দর্শকের কণ্ঠে ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া’ ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, যা খেলার মাঠের পরিবেশকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তোলে।

প্রথম রাউন্ডে কিছুটা বুঝে খেলার কৌশল নিলেও, অভিজ্ঞ এই ভারতীয় বক্সার দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। প্রতিপক্ষ রেহমানের রক্ষণাত্মক কৌশল ও ছন্দ সম্পূর্ণ বুঝে নিয়ে যদুমণি একের পর এক নিখুঁত হুক ও ক্ষিপ্র সোজা ঘুষি চালিয়ে ম্যাচের রাশ নিজের মুঠোয় নিয়ে আসেন। বিশেষ করে, দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর একটি শক্তিশালী ও মারাত্মক ডান হাতের ঘুষির আঘাতে পাকিস্তানি বক্সার এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েন যে রেফারিকে বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে গণনা (Standing Count) শুরু করতে হয়। এই একটি মুহূর্তই রিংয়ে যদুমণির নিরঙ্কুশ ও স্পষ্ট আধিপত্য প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট ছিল।

জয় কার্যত নিশ্চিত বুঝে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারতীয় বক্সার রিংয়ের মাঝখান থেকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শেষ রাউন্ডটি পরিচালনা করেন। পাকিস্তানি প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত আক্রমণ করার সুযোগ দিয়েও তীক্ষ্ণ ও বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণে তিনি রেহমানকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে রাখেন। উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক কার্গিল বিজয় দিবসের এই বিশেষ দিনে নিজের এই অভাবনীয় জয়টি দেশের কার্গিল যুদ্ধের বীর শহিদদের সশ্রদ্ধে উৎসর্গ করেছেন যদুমণি। কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের স্থান পাকা করার পর তাঁর গলায় শোনা গেছে সোনা জয়ের সুনির্দিষ্ট ও অবিচল হুংকার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তিনি এই জয় কার্গিলের অমর বীরদের উৎসর্গ করতে চান এবং প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ভারতের জন্য সোনার পদক ছিনিয়ে আনাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এখন পদক নিশ্চিত করার লক্ষে পৌঁছাতে এই তারকা বক্সারের মাত্র আর একটি মাত্র জয় প্রয়োজন।

অন্যদিকে, দিনের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুরন্ত পারফর্ম করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাকা করেছেন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী তারকা প্রীতি পাওয়ারও। মহিলাদের ৫৪ কেজি ওজন বিভাগের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে মালাউইয়ের প্রতিপক্ষ ডেবোরা এমটেনজের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। শুরু থেকেই নিজের আক্রমণাত্মক মেজাজ ও সুশৃঙ্খল বক্সিং কৌশলের জোরে প্রতিপক্ষের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেন প্রীতি। ম্যাচ গড়াতেই তাঁর দাপট স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং প্রথম দুই রাউন্ডের প্রতিটিতেই এমটেনজেকে স্ট্যান্ডিং কাউন্ট হজম করতে হয়। শেষ পর্যন্ত খেলার দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হতে তখন মাত্র ৪৭ সেকেন্ড বাকি, এমন সময় রিংয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রেফারি ম্যাচ থামিয়ে দেন এবং রেফারি স্টপ কনটেস্ট (RSC)-এর মাধ্যমে প্রীতিকে স্পষ্ট বিজয়ী ঘোষণা করেন। এই অভাবনীয় জয়ের সুবাদে পোডিয়াম ফিনিশ বা পদকের মঞ্চ থেকে এখন মাত্র এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রতিভাবান এই মহিলা বক্সার।