“৬৩৫ কোটির BGBS-এ বড় দুর্নীতি!”-তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, শিল্প নিয়ে বড় পরিকল্পনা

৪ মে-র পরিবর্তনের পর থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন ও অর্থনীতি নিয়ে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাইছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, রাজ্যকে শিল্পোন্নত করতে কোনোও জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ নয়, বরং মানুষের আস্থা অর্জনেই গুরুত্ব দিচ্ছে তাঁর প্রশাসন।

শিল্পায়নের ‘ত্রিমুখী’ নীতি: রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে মুখ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ ‘ত্রিমুখী’ নীতির কথা ঘোষণা করেছেন:

  • মেধাবী নিয়োগ: সরকারি স্তরে শূন্যপদ পূরণ করে দক্ষ ও মেধাবীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

  • আর্থিক সুবিধা: কেন্দ্রীয় প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ছোট ও বড় ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ব্যাঙ্কিং ঋণ ও ভর্তুকি সুবিধা প্রদান।

  • শিল্প পরিকাঠামো: ভারী শিল্প, এমএসএমই, ফুড প্রসেসিং, হর্টিকালচার ও ফিশারি খাতে নতুন ইন্ডাস্ট্রি ও প্রসেসিং ইউনিট গড়ে তোলা।

জমি নীতিতে ঐতিহাসিক বদল: শিল্পায়নের প্রশ্নে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের রক্তাক্ত অতীতের পুনরাবৃত্তি যে এই সরকার চায় না, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “জোর করে জমি নেওয়ার দিন শেষ। মানুষ সঠিক দাম পেলে নিজেই জমি দিতে এগিয়ে আসছেন।” হাসপাতালের নির্মাণ থেকে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ—গত কয়েকদিনে জমি প্রাপ্তির স্বচ্ছতাই তার প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি।

টাটাদের ফেরা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? দীর্ঘদিনের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু—সিঙ্গুর ও টাটা শিল্প প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে জানিয়েছেন, টাটা গ্রুপকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য। যদিও সিঙ্গুরের বর্তমান জমির মালিকানা কৃষকদের হাতে থাকায় পরিস্থিতির জটিলতা তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ওই মাটির প্রকৃতি এখন চাষযোগ্য নয়। তবে আমরা টাটাকে বাংলায় আনবই।”

বিজিবিএস (BGBS) নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য: গত সরকারের আমলে হওয়া বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS) নিয়েও এদিন বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, শুধুমাত্র এই সম্মেলনের আয়োজনের জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল ৬৩৫ কোটি টাকা! এত বিপুল অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিল্পমহলের প্রত্যাশা: বাম জমানা ও বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের শিল্প-বিমুখ নীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন নতুন আশার আলো দেখালেন। শিল্পমহলের মতে, সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা এবং স্বচ্ছ বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে পারলে বাংলার হারানো শিল্প-গরিমা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy