নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার আগেই আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেলেন মালদহের রতুয়ার কংগ্রেস প্রার্থী মোত্তাকিন আলম। বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছরের বেশি— এই বিচিত্র যুক্তিতে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল কমিশন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ও নবগঠিত ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে নিজের ভোটাধিকার ফিরে পেলেন তিনি।
নাটকীয় মোড় ও সুপ্রিম নির্দেশ: এদিন ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিকেল ৩টের মধ্যে নাম নথিভুক্ত না হলে প্রার্থীপদ হারাতেন মোত্তাকিন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়ছিল কংগ্রেস শিবিরে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নজরে আনেন প্রার্থীর আইনজীবী। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুপুর ১২টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে আবেদনের নিষ্পত্তি করার কড়া নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল দ্রুত শুনানি শেষ করে জানায়, শুধুমাত্র বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান বেশি হওয়ার কারণে কাউকে ‘অবৈধ ভোটার’ বলা যায় না। জুডিশিয়াল অফিসারের দেওয়া আগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানায়:
“বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ৫০ বছর হওয়াটা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যথেষ্ট যুক্তি হতে পারে না।”
শেষ মুহূর্তের স্বস্তি: আদালতের নির্দেশে বেলা ৩টের মধ্যেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় মোত্তাকিন আলমের নাম তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচনে লড়তে আর কোনও বাধা রইল না।
উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করার পর এটি তাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রায়। এর আগে ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই রকম নির্দেশ দিয়েছিল এই বিশেষ আদালত। মালদহ ও মুর্শিদাবাদে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, ট্রাইব্যুনালের এই তৎপরতা সাধারণ ভোটারদের মনেও নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।





