তৈরি হচ্ছে ধ্বংসলীলা? মঙ্গলবার রাত ৮টার ডেডলাইন দিলেন ট্রাম্প, কাঁপছে বিশ্ব!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা এখন প্রলয়ঙ্করী রূপ নিয়েছে। ইরানের প্রতি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা বিশ্বে। ট্রাম্পের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ যদি অবিলম্বে খুলে দেওয়া না হয়, তবে ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হবে।

ট্রাম্পের ‘ডেডলাইন’ ও চূড়ান্ত হুমকি নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ অত্যন্ত কড়া এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় ট্রাম্প লিখেছেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট আর ব্রিজ ধ্বংস করার দিন! ওই জাহান্নামের প্রণালী খোলো… নইলে তোমাদের নরকে বাস করতে হবে!” শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে দাবি না মানলে ইরানের তেলের খনিগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

শত্রু এলাকায় ঢুকে মার্কিন সেনার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে গত শুক্রবার থেকে। ইরানের গুলিতে ভেঙে পড়া একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে ইরানের শত্রু-অধ্যুষিত দুর্গম এলাকায় দুঃসাহসিক অভিযান চালায় ইউএস স্পেশাল ফোর্স। সফলভাবে পাইলটকে ফিরিয়ে আনার পরেই আমেরিকার মেজাজ আরও তুঙ্গে।

আগুনে ঘি ঢালছে ইজরায়েল আমেরিকার নির্দেশের অপেক্ষা না করেই ইজরায়েল ইরানের অসামরিক পরিকাঠামোয় একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। শনিবার ইরানের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট এবং সুলাইমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আছড়ে পড়েছে ইজরায়েলি মিসাইল। পাল্টা জবাবে ইরানের ছোড়া মিসাইল ইজরায়েলের হাইফা শহরের জনবসতিতে পড়লে ৪ জন আহত হন।

বিশ্ব অর্থনীতিতে হাহাকার বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান এই পথ আটকে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। বাংলাদেশসহ বহু দেশে ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে। ইরান সাফ জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষতি মেটাতে তারা এই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে মোটা অঙ্কের ‘টোল’ আদায় করবে।

ইরানের পাল্টা জবাব: ‘নরকের দরজা খোলা’ ট্রাম্পের এই হুমকিকে স্রেফ ‘পাগলামি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র মাহদি তাবাতাবাই একে ‘ব্যর্থতার ভয়’ বলে কটাক্ষ করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের সেনা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ট্রাম্পের জন্য ‘নরকের দরজা’ তৈরি করে রেখেছে।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবার রাত ৮টার সেই ডেডলাইন পার হওয়ার আগেই গোটা বিশ্ব এখন নিঃশ্বাস চেপে ধরছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন কি তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সলতে পাকাচ্ছে?