“মশার ধূপকে বলুন বিদায়!”-মশা-মাছি তাড়াতে ঘরে রাখুন এই ৫টি গাছ, জেনেনিন নাম

গরমের শুরুতেই মশা ও মাছির দাপটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। মশা তাড়াতে আমরা অনেকেই বাজারচলতি কয়েল বা লিকুইড স্প্রে ব্যবহার করি, যা ছোট শিশু বা বয়স্কদের ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার ঘরের জানালার এক কোণে রাখা একটি ছোট্ট গাছই হতে পারে মশা তাড়ানোর সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক অস্ত্র? বিষাক্ত ধোঁয়া নয়, বরং সুগন্ধি গাছের মাধ্যমেই এবার ঘর রাখুন মশামুক্ত।
মশা তাড়াতে জাদুকরী ৫টি গাছ:
তুলসি (Tulsi): ঘরোয়া এই গাছটি মশা তাড়াতে সিদ্ধহস্ত। তুলসিতে থাকা ‘ইউজিনল’ ও ‘এস্ট্রাগোল’ মশার যম। জানালার পাশে একটি তুলসি গাছ রাখলে মশা ঘরে ঢোকার রাস্তা খুঁজে পাবে না।
লেমনগ্রাস (Lemongrass): মশা তাড়ানোর ক্রিম বা লিকুইডে যে ‘সিট্রোনেলা’ তেল থাকে, তার আসল উৎস এই লেমনগ্রাস। এর লেবু-গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। বারান্দায় এই গাছ রাখলে মশা-মাছি দূরে থাকবে।
পুদিনা (Mint): পুদিনার তীব্র মেন্থলযুক্ত গন্ধ মশা ও মাছির কাছে খুবই বিরক্তিকর। ছোট টবে জানালার পাশে পুদিনা লাগালে ঘর সতেজ থাকে এবং পোকামাকড়ও কম আসে।
ল্যাভেন্ডার (Lavender): ল্যাভেন্ডারের মিষ্টি গন্ধ আমাদের মন ভালো করলেও মশা এটি একদমই পছন্দ করে না। এতে থাকা ‘লিনালুল’ উপাদান মশা দূরে রাখতে সাহায্য করে এবং ঘরের পরিবেশ মনোরম রাখে।
গাঁদা ফুল (Marigold): শুধু সাজসজ্জার জন্য নয়, গাঁদা ফুলে থাকা ‘পাইরেথ্রাম’ উপাদান প্রাকৃতিক মশা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। প্রবেশপথ বা দরজার সামনে গাঁদা ফুলের টব রাখলে উপকার পাবেন।
কেন বেছে নেবেন প্রাকৃতিক সমাধান?
রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, এই গাছগুলো: ১. বাতাস পরিশোধন করে ঘরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায়। ২. রাসায়নিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের রক্ষা করে। ৩. ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি আনে।
রক্ষণাবেক্ষণের ছোট টিপস:
গাছগুলো এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পৌঁছায়। নিয়মিত জল দেওয়া এবং শুকনো পাতা পরিষ্কার রাখা জরুরি। বিশেষ করে প্রবেশপথ বা জানালার কাছে গাছগুলো রাখলে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়।
মশা-মাছির যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে আজই কৃত্রিম উপায় ছেড়ে প্রকৃতির কোল বেছে নিন। আপনার ঘরের এক কোণের সবুজই হতে পারে মশার হাত থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ কবচ!