২৩ এপ্রিল অগ্নিপরীক্ষা! প্রথম দফার ১৫২ আসনেই কি লুকিয়ে নবান্নের চাবিকাঠি? কার দখলে কটা আসন?

বাংলায় ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। আর এই প্রথম দফাতেই রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ১৫২টি আসনে নির্বাচন হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৫২টি আসনেই নির্ধারিত হয়ে যাবে নবান্নের ভবিষ্যৎ। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— প্রথম দফার এই বিস্তীর্ণ এলাকায় তৃণমূল না বিজেপি, শেষ হাসি হাসবে কে?

প্রথম দফার ভৌগোলিক সমীকরণ: প্রথম দফার ভোটে নজর থাকছে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে।

  • তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ: গত ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে অনেক জায়গায় জমি ফিরে পেয়েছে শাসকদল। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পের ওপর ভর করে ঘাসফুল শিবির এবার অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।

  • বিজেপির লড়াই: উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বরাবরই তুঙ্গে। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য, গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের লিড বজায় রাখা এবং ‘এন্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকে কাজে লাগানো।

কার ঝুলিতে যেতে পারে কটা আসন? যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ৪ মে জানা যাবে, তবে রাজনৈতিক মহলের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী:

  • উত্তরবঙ্গ: এখানে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে সমানে সমানে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা। বিশেষ করে চা বলয় এবং রাজবংশী ভোট যেদিকে ঝুঁকবে, সেই দলই মাইলেজ পাবে।

  • জঙ্গলমহল: গত কয়েক বছরে এই এলাকায় তৃণমূল নিজেদের হারানো জমি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, কুড়মি আন্দোলন এবং আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক বিজেপির জন্য বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।

  • দক্ষিণবঙ্গের জেলাসমূহ: বীরভূম ও মেদিনীপুরে শাসকদলের সংগঠন মজবুত থাকলেও বিজেপির কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতাদের প্রচার লড়াইকে কঠিন করে তুলেছে।

১৫২ আসনের গুরুত্ব: বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে দেখা গেছে, প্রথম দিকে যারা এগিয়ে থাকে, পরবর্তী দফার ভোটে তার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে। এই ১৫২টি আসন গত নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড় ভরসা ছিল। এবার তৃণমূল যদি এখান থেকে ভালো সংখ্যক আসন বের করে নিতে পারে, তবে মমতার হ্যাটট্রিক আটকানো বিরোধীদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, বিজেপি যদি নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে পারে, তবে নবান্ন দখলের লড়াই শেষ পর্যন্ত টানটান থাকবে।

কমিশনের কড়া নজরদারি: যেহেতু এই ১৫২টি আসনের মধ্যে অনেকগুলো এলাকা ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত, তাই নির্বাচন কমিশন এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং ড্রোনে নজরদারির মাধ্যমে অবাধ ভোট করতে মরিয়া প্রশাসন।

বাংলার মসনদে কে বসবে, তার প্রথম ধাপের এই লড়াইয়ে কার পাল্লা ভারী থাকে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy