মাত্র ২১ মিনিটের ভাষণ, কিন্তু তাতেই সংসদীয় রাজনীতির ব্যাকরণ বদলে দিলেন ওয়ানাড়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। বৃহস্পতিবার লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল নিয়ে বলতে উঠে প্রিয়াঙ্কা যেভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে তীক্ষ্ণ যুক্তির বাণ শানালেন, তাতে মুগ্ধ খোদ শাসক শিবিরও। কোনো তিক্ততা নেই, অথচ প্রতিটি শব্দে বিঁধল কেন্দ্রীয় সরকারকে—আর সবটাই হলো প্রিয়াঙ্কার সেই সহজাত একগাল হাসি নিয়ে।
ভাষণের শুরুতেই বিজেপিকে ‘নেহরু-বাণে’ ঘায়েল করেন তিনি। বিজেপি বরাবর জওহরলাল নেহরুর সমালোচনায় মুখর থাকলেও প্রিয়াঙ্কা মনে করিয়ে দেন ইতিহাসের অন্য অধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার শাসক দলের বন্ধুরা হয়তো পছন্দ করবেন না, কিন্তু মহিলা সংরক্ষণের সূচনা করেছিলেন একজন নেহরুই। চিন্তা করবেন না, তিনি জওহরলাল নন যাকে আপনারা এড়িয়ে চলেন—আমি ১৯২৮ সালে মতিলাল নেহরুর রিপোর্টের কথা বলছি।” ১৯৩১-এর করাচি অধিবেশনে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তির ইতিহাস তুলে ধরেন।
তবে ভাষণের সবথেকে চর্চিত মুহূর্তটি ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে তাঁর ‘চাণক্য’ খোঁচা। প্রিয়াঙ্কা সহাস্যে বলেন, “আপনারা সব পরিকল্পনা করেই এসেছেন। আজ যদি আসল চাণক্য বেঁচে থাকতেন, তবে আপনাদের এই ধূর্ততা দেখে তিনিও তাজ্জব বনে যেতেন!” এই মন্তব্যে খোদ অমিত শাহকেও অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে দেখা যায়। এমনকি শাহ যখন পাল্টা বলতে ওঠেন, তাঁর সুর ছিল লক্ষ্যণীয়ভাবে নরম। প্রিয়াঙ্কার এই পারফরম্যান্সে খুশি দাদা রাহুল গান্ধী ভাষণ শেষে বোনের পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান।





