“২০ টাকাতেই কেল্লাফতে!”-মদের দোকান তো বন্ধ হতেই, সুরাপ্রেমীদের ভিড় তালবাগানে!

ভোটের জেরে রাজ্যজুড়ে কড়া পাহারা, জারি হয়েছে ‘ড্রাই ডে’। লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান ও পানশালাগুলোতে ঝুলছে তালা। কিন্তু সুরাপ্রেমীদের রোখে কে? বিলিতি মদের অভাব মেটাতে এবার তাঁরা ফিরে গিয়েছেন প্রকৃতির কোলে। গুসকরা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার তালবাগানগুলোই এখন সুরাপ্রেমীদের প্রধান ভরসা।

তালরস যখন বিকল্প ‘নেশা’

ভোটের আবহে আবগারি দফতরের কড়াকড়িতে দিশেহারা সুরাপ্রেমীরা বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন তালরস বা তাড়িকে। গুসকরা শহরের রায়পাড়া, মাঠপাড়া এবং লাইপাড়ার তালবাগানগুলোতে এখন সকাল হতেই লম্বা লাইন। স্থানীয়দের বক্তব্য, চড়া রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার পর বা বিকেলে আড্ডার জন্য অনেকেই এখন তাড়ির ওপর নির্ভর করছেন।

হাঁড়ি নামতেই হুড়োহুড়ি!

তালরস সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বেশ আকর্ষণীয়। সূর্যাস্তের পর গাছে হাঁড়ি বাঁধা হয় এবং ভোরের আলো ফোটার আগেই তা নামিয়ে নেওয়া হয়। টাটকা রস মিষ্টি হলেও, বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাতে ‘ফারমেন্টেশন’ শুরু হয় এবং তা কড়া তাড়িতে পরিণত হয়।

  • সস্তায় পুষ্টি ও নেশা: প্রতি লিটার তালরসের দাম মাত্র ২০ টাকা। ফলে পকেটে টান না দিয়েই রসনা তৃপ্তি হচ্ছে সুরাপ্রেমীদের।

  • দূর-দূরান্ত থেকে ভিড়: শুধু গুসকরা নয়, আউশগ্রাম, ভাতার, মঙ্গলকোট এমনকি মানকর থেকেও মানুষ আসছেন বোতল বা বালতি হাতে নিয়ে।

সকাল হতেই জমজমাট আড্ডা

গুসকরার বিভিন্ন এলাকায় ১৪-১৫ জন বিক্রেতা সকাল থেকে হাঁড়ি নিয়ে বসছেন। বিপুল চাহিদার কারণে মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই ফুরিয়ে যাচ্ছে রস। মদের দোকান বন্ধ থাকায় তালবাগানগুলোই এখন ছোটখাটো আড্ডার ঠেকে পরিণত হয়েছে। কেউ সেখানেই ঢকঢক করে গিলে নিচ্ছেন, কেউ আবার বাড়ির জন্য পার্সেল নিয়ে যাচ্ছেন।

ভোটের উত্তাপ আর ড্রাই ডের খরা—সব মিলিয়ে গুসকরার তালগাছগুলোই এখন সুরাপ্রেমীদের কাছে ‘মরুদ্যান’ হয়ে উঠেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy