দেশের রাজধানীতে ফের একবার বেআব্রু হয়ে পড়ল নারী নিরাপত্তা। এবার খোদ সরকারি আমলার বাসভবনে ঢুকে তাঁর ২২ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল এক প্রাক্তন পরিচারকের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির অমর কলোনি এলাকার এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জিমে গিয়েছিলেন বাবা-মা, সেই সুযোগেই হানা
পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার সকালে যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন ওই আমলা ও তাঁর স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। তাঁরা প্রতিদিনের মতো সকালবেলা জিমে গিয়েছিলেন। সকাল ৮টা নাগাদ বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন, ছাদে পড়ার ঘরে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। অভিযোগ, গলার চারধারে মোবাইল চার্জারের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। প্রাথমিক তদন্তে তরুণীকে ধর্ষণের চিহ্নও মিলেছে।
সিসিটিভি-তে ধরা পড়ল ঘাতকের মুখ
তদন্তে নেমে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পারে, অভিযুক্ত রাহুল মীনা (২৩) সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে বাড়িতে ঢোকে এবং কাজ সেরে মাত্র ৫০ মিনিটের ব্যবধানে অর্থাৎ ৭টা ৩০ মিনিটে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে টাকা ও গয়না লুট করে নিয়ে পালায় সে।
এক রাতে দুই রাজ্যে অপরাধ!
তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য। রাহুল আগে ওই আমলার বাড়িতেই কাজ করত, কিন্তু জুয়া ও ধারের অভ্যাসের জন্য তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ:
মঙ্গলবার রাত: রাজস্থানের আলোয়ারে নিজের এক প্রতিবেশীকে ধর্ষণ করে রাহুল।
বুধবার সকাল: দিল্লি পৌঁছে আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ ও খুন করে।
১৫টি টিম ও ওআইও (OYO) থেকে গ্রেফতার
দিল্লি পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ১৫টি বিশেষ দল গঠন করে। ওই এলাকার অটো চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, অভিযুক্ত দ্বারকা এলাকায় পালিয়েছে। সেই সূত্র ধরে বুধবার রাতেই দ্বারকার একটি ওআইও (OYO) হোটেল থেকে রাহুল মীনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন এবং ডাকাতির ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
রাজধানীর বুকে একজন আমলার বাড়িতে ঢুকে এমন নৃশংস অপরাধ ঘটানোর ঘটনায় দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ।





