মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল সরকার। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার দোহাই দিয়ে রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। এর ফলে কেবল যাতায়াত নয়, চাল-ডাল থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য—সবকিছুর দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক নজরে নতুন ও পুরোনো দাম (প্রতি লিটার):
| জ্বালানির ধরন | পুরোনো দাম | নতুন দাম | বৃদ্ধি |
| অকটেন | ১২০ টাকা | ১৪০ টাকা | ২০ টাকা |
| পেট্রোল | ১১৬ টাকা | ১৩৫ টাকা | ১৯ টাকা |
| ডিজেল | ১০০ টাকা | ১১৫ টাকা | ১৫ টাকা |
| কেরোসিন | ১১২ টাকা | ১৩০ টাকা | ১৮ টাকা |
পকেটে কোপ: কেন চিন্তিত সাধারণ মানুষ?
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসতে না আসতেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে।
রান্নার গ্যাস মহার্ঘ্য: তেলের সাথে পাল্লা দিয়ে এলপিজি গ্যাসের দামও কেজিতে প্রায় ১৭.৬২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষিতে বিপর্যয়: বোরো চাষের মরশুমে ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেকটা বাড়বে। ফলে চালের দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।
পরিবহন ব্যয়: গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বাড়ার অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। ৪২০ টাকা কেজি সোনালি মুরগি কিংবা ১০০ টাকা কেজির সবজি এখন সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা।
১৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে মূল্যস্ফীতি!
গবেষণা সংস্থা সিপিডির গবেষণা পরিচালক ডঃ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানিয়েছেন, সরকার সঠিক বাজার মনিটরিং না করলে বর্তমানের ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি এক বছরের মধ্যে ১৩ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। তিনি বলেন, “এটি সরকারের নিরুপায় সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে শুল্ক সমন্বয় জরুরি।”
সরকারের যুক্তি: ‘মূল্য সমন্বয়’
যদিও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, তেলের দাম নগণ্যই বাড়ানো হয়েছে এবং এতে মূল্যস্ফীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই ‘অপ্রিয়’ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সরকার।





