২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই তিলোত্তমায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র মেগা অপারেশন। রবিবার ছুটির দিনেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তিলোত্তমার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।
ইডির জালে জয় কামদার: রবিবার সকাল থেকেই কলকাতার একাধিক জায়গায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ নামক বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় কামদারকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত আটক করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বর্তমানে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জয় কামদারের আইনজীবী সুব্রত সরকার জানান, একটি আর্থিক বিষয়ের নোটিশের ভিত্তিতেই তাঁকে তলব করা হয়েছিল, তবে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশকর্তার বাড়িতে তল্লাশি: তদন্তের রেশ পৌঁছেছে লালবাজারের অন্দরেও। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DC) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাসভবনেও এদিন ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। আধিকারিকদের মতে, ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং এই পদস্থ পুলিশকর্তার মধ্যে যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। শহরজুড়ে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানায় একযোগে হানা দেওয়া হয়।
কী এই ‘সোনা পাপ্পু ও জয় কামদার’ মামলা? মুলত অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে এই মামলার তদন্ত চলছে। সূত্রের খবর, এই তদন্তের জাল বেশ গভীরে। অভিযোগ উঠেছে, এই মামলার সঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের পরোক্ষ যোগ থাকতে পারে। যদিও ইডি বা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করেনি, তবে নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রীয় তৎপরতা যে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং মামলার শিকড় কতদূর পৌঁছায় এবং ধৃতদের বয়ানে আরও বড় কোনো নাম উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





