সম্পত্তি কেনার সময় ৫০ লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরোলেই ১ শতাংশ টিডিএস (TDS) কাটার দুশ্চিন্তা থাকে ক্রেতাদের মনে। কিন্তু সম্প্রতি আহমেদাবাদের আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT) এমন এক রায় দিয়েছে, যা অনেক পুরোনো মামলার ক্ষেত্রে বাড়ি ক্রেতাদের বড় স্বস্তি দেবে। ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করেছে যে, যদি কোনো সম্পত্তির একাধিক মালিক থাকে এবং প্রত্যেক বিক্রেতাকে দেওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লক্ষের কম হয়, তবে টিডিএস প্রযোজ্য হবে না।
হাসমুখভাই প্যাটেল বনাম আইটিও মামলাটি কী ছিল?
হাসমুখভাই প্যাটেল নামের এক ব্যক্তি ৫০ লক্ষ টাকার বেশি দামের একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির মালিক ছিলেন বেশ কয়েকজন। হাসমুখভাই যখন টাকা মেটান, তখন দেখা যায় কোনো একক বিক্রেতাকেই তিনি ৫০ লক্ষ টাকার বেশি দেননি। এর ফলে তিনি টিডিএস কাটেননি। কিন্তু আয়কর দপ্তর একে ‘ভুল’ বলে চিহ্নিত করে তাঁর ওপর ১৩.৫ লক্ষ টাকা কর ও সুদের বোঝা চাপিয়ে দেয়।
আইটিএটি (ITAT)-র ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
ট্রাইব্যুনাল হাসমুখভাইয়ের পক্ষ নিয়ে আয়কর দপ্তরের দাবি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ হলো:
ব্যক্তিগত সীমা: তৎকালীন আইন অনুযায়ী (এওয়াই ২০১৫-১৬), ৫০ লক্ষ টাকার সীমাটি সম্পত্তির মোট দামের ওপর নয়, বরং প্রত্যেক বিক্রেতাকে দেওয়া অর্থের ওপর ভিত্তি করে দেখা উচিত।
পুরোনো মামলায় স্বস্তি: যেহেতু প্রত্যেক বিক্রেতা ৫০ লক্ষ টাকার কম পেয়েছেন, তাই টিডিএস কাটার প্রশ্নই ওঠে না। এই রায়ের ফলে হাসমুখভাইকে আর ১৩.৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে না।
সতর্কবার্তা: ১ এপ্রিল, ২০২৪ থেকে নিয়ম বদলেছে!
তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে যে, এই ছাড়টি মূলত পুরোনো মামলাগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে আয়কর আইনের সংশোধনীর ফলে নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে:
নতুন নিয়ম: এখন সম্পত্তির মোট মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেলেই টিডিএস দেওয়া বাধ্যতামূলক। বিক্রেতা একজন হোন বা একাধিক—সম্পত্তির মোট দাম ৫০ লক্ষের বেশি হলেই ১ শতাংশ টিডিএস কাটতে হবে।
ক্রেতাদের জন্য শিক্ষণীয়:
আপনি যদি ১ এপ্রিল ২০২৪-এর আগে কোনো সম্পত্তি কিনে থাকেন যেখানে বিক্রেতা একাধিক ছিলেন, তবে আপনি এই রায়ের সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে সম্পত্তি কেনার আগে বর্তমান টিডিএস নিয়মগুলি ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি, নতুবা আয়কর দপ্তরের নোটিশের মুখে পড়তে হতে পারে।





