আমেরিকা ছাড়াই লড়তে হবে ইউরোপকে! পুতিন-ট্রাম্পের সাঁড়াশি চাপে কি বিলুপ্তির পথে ন্যাটো?

সময়টা ১৯৮৭। ডোনাল্ড ট্রাম্প তখনও হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা হননি। কিন্তু সেই সময় থেকেই মার্কিন সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর চোখে বিশ্ব রাজনীতি মানেই কেবল ‘টাকার খেলা’। ২০২৬ সালে এসে সেই চার দশক পুরনো ছকই কি পূর্ণতা পেতে চলেছে? ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর ‘নিষ্ক্রিয়তা’ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

ন্যাটো কি কেবলই একটি ‘কাগুজে বাঘ’? সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “ন্যাটো একটি কাগুজে বাঘ, আমেরিকার আর এদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ন্যাটোর অস্তিত্বের মূলে আঘাত করেছে। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক রাষ্ট্রনেতাই এখন জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।

ইউক্রেন থেকে ইরান: ন্যাটোর পিছু হটা ২০২২ সালে পুতিন-ম্যাক্রোঁ বৈঠকের সময় থেকেই ন্যাটোর ফাটল চওড়া হতে শুরু করেছিল। রাশিয়ার পারমাণবিক হুমকির মুখে ইউক্রেনকে সরাসরি সামরিক সাহায্য দিতে ন্যাটোর দ্বিধা জোটের শক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। এখন ২০২৬-এ এসে ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর অনীহা ট্রাম্পকে বাধ্য করেছে জোটটির ওপর থেকে চিরতরে মুখ ফিরিয়ে নিতে।

ইউরোপের একাকী লড়াই: মার্কিন সাহায্য বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ব্রিটেন এবং জার্মানি ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, পুরনো ন্যাটোর দিন শেষ। এখন প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটো কি রাশিয়ার মোকাবিলা করতে পারবে? বিশেষ করে যেখানে পুতিন শুরু থেকেই নিজের সীমান্তে ন্যাটোর উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছেন।

ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট কূটনীতি: বারাক ওবামা একবার বলেছিলেন, ট্রাম্পের চোখে বিশ্বটা কেবলই একটা ‘রিয়েল এস্টেট’। ১৯ এপ্রিল, ২০২৬-এর সর্বশেষ পরিস্থিতি বলছে, ট্রাম্পের সেই ‘আর্থিক নীতি’ এবার ন্যাটোকে দেউলিয়া করে ছাড়বে। ১৯৮৭ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি তৎকালীন প্রশাসনের সমালোচনা শুরু করেছিলেন, আজ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সম্ভবত সেই সামরিক জোটের মৃত্যু পরোয়ানা লিখে ফেললেন।

উপসংহার: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে জোট আমেরিকাকে বিশ্বসেরার মর্যাদা দিয়েছিল, আজ সেই আমেরিকাই সেই জোটকে ‘বোঝা’ মনে করছে। ইরান যুদ্ধ ন্যাটোর কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিল কি না, তা সময়ই বলবে। তবে ইউরোপ যে এখন থেকেই একাকী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা নিশ্চিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy