মহারাষ্ট্রের পবিত্র ভূমি এবং সাধু-সন্তদের শহর হিসেবে পরিচিত শেগাঁও থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত লজ্জাজনক অপরাধের খবর সামনে এসেছে। হোটেলের মহিলা কর্মীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে তাঁদের যৌন লালসার শিকার বানানোর এক জঘন্য চক্র চালাচ্ছিল খোদ হোটেলের মালিক। ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক মহিলা কর্মীকে বারবার যৌন নির্যাতনের এই ঘটনায় পুরো বুলধানা জেলা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি শেগাঁও শহরের খামগাঁও রোডে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় হোটেলের। যেখানে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে অনেক সাধারণ পরিবারের মহিলারা কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেলের মালিক জ্ঞানেশ্বর লিপ্টে সমস্ত মানবিক সীমা অতিক্রম করে ওই হোটেলে কর্মরত এক মহিলার স্নান করার দৃশ্য গোপনে ক্যামেরা বন্দি করেন। এরপর সেই ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই মহিলাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন অভিযুক্ত মালিক।
নারকীয় এই ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। ছবি ফাঁসের ভয় দেখিয়ে জ্ঞানেশ্বর লিপ্টে ওই মহিলাকে বারবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন এবং যৌন নির্যাতন চালান। দীর্ঘ সময় ধরে এই মানসিক ও শারীরিক নিগ্রহ সহ্য করার পর, অবশেষে ভুক্তভোগী নারী সাহস সঞ্চয় করে পুলিশের দ্বারস্থ হন। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে সামনে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযুক্ত মালিক কেবল যৌন নির্যাতনই নয়, বরং ভুক্তভোগীকে জাতিগত বিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তুলেছিলেন। এছাড়াও জানা গেছে, হোটেলে কর্মরত অন্যান্য নারী কর্মীদের সাথেও সে প্রায়ই অশালীন আচরণ এবং কুপ্রস্তাব দিত।
বিষয়টির গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিচার করে শেগাঁও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত জ্ঞানেশ্বর লিপটের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানি এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত মালিককে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারী অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন যে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে বা অন্য কোনও ডিভাইসে আরও কতজন মহিলার স্নানের ভিডিও বা আপত্তিকর ছবি লুকানো আছে।
পবিত্র শহর শেগাঁও-এ এমন জঘন্য অপরাধের কথা জানাজানি হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। হোটেলের মতো কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে এই ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং কতদিন ধরে এই অনৈতিক কাজ চলছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।





