হিমাঙ্ক থেকে মরুভূমি—সব বাধা তুচ্ছ করে নজরদারি! ভারতীয় সেনার জন্য আসছে অত্যাধুনিক মাইক্রো ইউএভি!

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মেঘ আর মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে মাস্টারস্ট্রোক দিল ভারত সরকার। ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) এলিট ইউনিট ‘গরুড় স্পেশাল ফোর্স’-এর জন্য কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক মাইক্রো ইউএভি (Micro UAV) সিস্টেম। এই ড্রোনটি হাতে এলে দুর্গম হিমালয় থেকে শুরু করে রাজস্থানের তপ্ত মরুভূমি—শত্রুর কোনো পদক্ষেপই আর নজর এড়াবে না।

১৬,৪০০ ফুট উঁচুতেও অজেয়

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই বিশেষ ড্রোনটি ১৬,৪০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত অনায়াসেই কাজ করতে পারবে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের চমকে দেওয়ার মতো:

  • চরম তাপমাত্রা: মাইনাস ২০ ডিগ্রি থেকে প্লাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় এটি সমান কার্যকর। অর্থাৎ লাদাখের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা বা মরুভূমির লু—কিছুই এর নজরদারি আটকাতে পারবে না।

  • অদৃশ্য নজরদারি: এটি একটি কমপ্যাক্ট এবং হালকা ওজনের ড্রোন, যা মাত্র দু’জন জওয়ানের একটি দল সহজেই বহন ও পরিচালনা করতে পারবে।

  • দিন-রাত পাহারা: এতে থাকা ইনফ্রারেড পেলোড দিন ও রাত—উভয় সময়েই রিয়েল-টাইম তথ্য পাঠাতে সক্ষম।

শত্রুর জন্য মৃত্যুবাণ: বিশেষ ফিচার

এই মাইক্রো ইউএভি সিস্টেমে রয়েছে উল্লম্ব উড্ডয়ন ও অবতরণ (Vertical Take-off and Landing) ক্ষমতা। অর্থাৎ, বড় রানওয়ের প্রয়োজন নেই। এমনকি জিপিএস (GPS) কাজ না করলেও এটি ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট সিস্টেম IRNSS ব্যবহার করে ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অন্তত ৬০ মিনিট ধরে নিরবচ্ছিন্ন পাহারা দিতে পারবে।

‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও দেশীয় প্রতিরক্ষা

মোদী সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ মিশনের অধীনে এই প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ ও কোম্পানিগুলিকে। শর্ত দেওয়া হয়েছে, এই ড্রোন তৈরিতে অন্তত ৬০ শতাংশ দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে ভারত ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy