ভারত কি তবে বিশ্বের পরবর্তী চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং সুপারপাওয়ার হতে চলেছে? উত্তরটা সম্ভবত ওড়িশার মাটি থেকেই আসতে শুরু করেছে। অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে ওড়িশার ভুবনেশ্বরের ‘ইনফো ভ্যালি’-তে দেশের প্রথম অ্যাডভান্সড 3D সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। এটি কেবল একটি কারখানা নয়, বরং হাই-টেক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে ভারতের আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
কেন এই প্রযুক্তি বিশ্বসেরা?
সাধারণত চিপ তৈরিতে সিলিকন সাবস্ট্রেট ব্যবহার করা হলেও, ওড়িশার এই প্ল্যান্টে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ‘3D গ্লাস সাবস্ট্রেট’ প্রযুক্তি। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একে সেমিকন্ডাক্টর জগতের ‘নেক্সট জেনারেশন ইনোভেশন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কী কী সুবিধা মিলবে?
AI ও 5G-তে গতি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং 5G প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রসেসিং ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ডিফেন্স টেক: সামরিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উচ্চমানের ইলেকট্রনিক্স এখন দেশেই তৈরি হবে।
ভবিষ্যতের টেকনোলজি: সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে এই 3D প্যাকেজিং-কে।
২,০০০ কোটির বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থান
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে এই প্রকল্পে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এখান থেকে বছরে:
৭০,০০০ গ্লাস প্যানেল
৫০ মিলিয়ন অ্যাসেম্বল্ড ইউনিট
১৩,০০০ অ্যাডভান্সড 3DHI মডিউল
উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের হাত ধরে সরাসরি ২,৫০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ইন্টেল (Intel), লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin) এবং অ্যাপ্লাইড মেটেরিয়ালসের (Applied Materials) মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টরাও ওড়িশার এই শিল্প সম্ভাবনায় গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কেন ওড়িশা?
ইন্টেলের সিইও লিপ-বু ট্যান ওড়িশার পরিকাঠামোর প্রশংসা করে জানিয়েছেন, রাজ্যে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত জলসম্পদ এবং দক্ষ জনশক্তির সমাবেশই এই হাই-টেক শিল্পের জন্য ওড়িশাকে আদর্শ করে তুলেছে।
ভারত এখন আর কেবল চিপ আমদানিকারক নয়, বরং এই অ্যাডভান্সড 3D প্যাকেজিং ইউনিটের হাত ধরে বিশ্ববাজারে রপ্তানিকারক হিসেবেও নিজের জায়গা শক্ত করতে চলেছে। ভুবনেশ্বর এখন দেশের টেক-ম্যাপে এক নতুন উজ্জ্বল বিন্দু।





