রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে উন্নয়নের লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় গড়তে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কোলাঘাটে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, এখন থেকে উন্নয়নের কাজে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদেরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘ভোটের রাজনীতি নয়, উন্নয়ন বড়’ এদিন কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার ৩৫ জন বিধায়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যার মধ্যে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের গুরুত্ব বুঝিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে এমএলএ মানে শুধুই এমএলএ। তিনি কোন দলের, তা বড় কথা নয়। ভোটের সময় রাজনীতি থাকবে, কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”
‘মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা’ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফেরানোর কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী শিবিরের এক সাংসদ তাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আপনারা আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন, তাই আজ মন খুলে কথা বলতে পারলাম।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের বিষয়টিই যেন সামনে চলে এল।
পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ নিজের বক্তব্যে আগের সরকারের কড়া সমালোচনা করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “একটা সময় থানাগুলো পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল, পঞ্চায়েতগুলো কাটমানির সেন্টারে রূপান্তরিত হয়েছিল। মানুষ পরিষেবা পেতেও হয়রানির শিকার হতো।” শাসকের আইনের পরিবর্তে রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
খরচ কমিয়ে উন্নয়নের পাঠ প্রশাসনিক বৈঠকের খরচের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী সংযমের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগে এই ধরণের বৈঠকের নামে কোটি কোটি টাকা ওড়ানো হতো। হেলিকপ্টার বা বিলাসিতায় জনগণের ট্যাক্সের টাকা নষ্ট হতো। আমরা অত্যন্ত মিতব্যায়ীভাবে কাজ করছি, এতে পাঁচ লক্ষ টাকাও খরচ হচ্ছে না।” এছাড়া সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে স্কুল বা জনজীবন ব্যাহত না করে বৈঠক করার রীতিও তিনি প্রবর্তন করেছেন।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ঐকমত্য দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি সাংসদের কমিটমেন্ট ছিল, আমারও কমিটমেন্ট। এখানে কৃতিত্ব নেওয়ার লড়াই নয়, কাজটা সম্পন্ন হওয়াই আসল।”
আগামী ১২ জুন মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সমন্বয়, রাজনৈতিক সৌজন্য এবং মিতব্যায়িতা—এই তিন মন্ত্রেই কি নতুন বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী? কোলাঘাটের এই বৈঠক যেন তারই ইঙ্গিত বহন করছে।





