তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভিত্তি যেন ক্রমেই আলগা হচ্ছে। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও বড়সড় ধস নামল ঘাসফুল শিবিরে। অভিজ্ঞ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের পথ অনুসরণ করেই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুস্মিতা দেব। শুধু উচ্চকক্ষ থেকেই নয়, দলের অন্দরে অসমে তৃণমূলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও তিনি অব্যাহতি নিয়েছেন। বুধবার সকালে সরাসরি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সুস্মিতা। এই প্রস্থান তৃণমূলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি করেছে।
গত সোমবার লোকসভার অন্তত ২০ জন সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যসভায় তৃণমূলের এই রক্তক্ষরণ দলের নেতৃত্বকে দিশেহারা করে তুলেছে। সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি পদত্যাগ নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, সুস্মিতা দেবের এই সিদ্ধান্ত শুধু শুরু। শীঘ্রই আরও অন্তত চারজন সাংসদ রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। বিশেষ করে বাংলার সংস্কৃতি মহলের এক অত্যন্ত পরিচিত মুখ, যিনি সম্প্রতি সাংসদ হয়েছেন, তিনিও নাকি বড় কোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। দলের অন্দরের এই ডামাডোল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরাই এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সুখেন্দু শেখর রায়ের ইস্তফার পরই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়তে শুরু করেছিল। সুখেন্দুর প্রস্থানকে অনেকে দলের সাংগঠনিক ব্যর্থতার চূড়ান্ত ইঙ্গিত হিসেবে দেখছিলেন। সুস্মিতা দেবের ইস্তফা সেই ক্ষতে লবণ ছিটিয়ে দিল। কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সুস্মিতা দলের কেন্দ্রীয় মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ নেত্রীর এভাবে দল ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক ক্ষতি।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের ওপর থেকে দিল্লির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ যেন হাতছাড়া হতে বসেছে। বিধানসভার নির্বাচনের পর থেকে শুরু হওয়া এই ভাঙন প্রক্রিয়া এখন জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। আগামী কয়েক দিন কি আরও বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন রাজ্যসভার করিডোরে, যেখানে প্রতিটি ইস্তফাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের শক্তিকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে দিচ্ছে। শাসকদলের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন, তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ।





