নদিয়ার ফলতা রাজনীতির ত্রাস, ‘ফলতার পুষ্পা’ হিসেবে পরিচিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে। ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করার পর বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশের দাবি, দেশ ছেড়ে পালানোর ছক কষছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার কড়া নিরাপত্তার বলয়ে জাহাঙ্গিরকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বর কার্যত দুর্গ গড়ে তুলেছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলতা থানার তরফে তদন্তের খাতিরে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিচারক সমস্ত পক্ষের শুনানি শেষে ৫ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। এদিন আদালত চত্বরে এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখা যায়—জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারির খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণ করেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এদিন জাহাঙ্গিরের পক্ষে কোনো ব্যক্তিগত আইনজীবী দাঁড়াতে রাজি হননি। ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা নৈতিক কারণে এই মামলায় অভিযুক্তের পক্ষ নিতে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি লিগ্যাল এইডের আইনজীবীকে তাঁর হয়ে সওয়াল করতে হয়। আদালত তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে। বিজেপির আইনজীবী দেবাংশু পান্ডা জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুন, লুটপাট, সন্ত্রাস সৃষ্টি এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।
বিজেপি নেতা গৌতম বাগ মিষ্টিমুখ করিয়ে বলেন, “জাহাঙ্গির গ্রেফতার হয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত। তবে ও যেদিন ছাড়া পাবে, সেদিন ওর জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে।” প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পুরনো একাধিক মামলার জট খুলতেই জাহাঙ্গিরকে জেরা করা প্রয়োজন। আগামী ৫ দিনের এই জিজ্ঞাসাবাদে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল। আপাতত আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং জেরায় জাহাঙ্গির কোন নতুন তথ্যের ইঙ্গিত দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ফলতা।





