কর্পোরেট জগতের ঝকঝকে আবরণের নিচে যে এত বড় অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি কেউ। মহারাষ্ট্রের নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর বিপিও শাখায় সামনে এসেছে এক ভয়াবহ যৌন কেলেঙ্কারি ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ। সদ্য কলেজ পাশ করা তরুণীদের লক্ষ্য করে দিনের পর দিন চলা এই অনাচারের ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত গোটা দেশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৭ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা এইচআর (HR) সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
নাসিক শাখার এক পুরুষ কর্মচারী যে চাঞ্চল্যকর বয়ান দিয়েছেন, তা শুনে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। ওই কর্মচারী জানান, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও গর্ভবতী হতে পারছিলেন না। এই ব্যক্তিগত সমস্যার কথা টিম লিডার তৌসিফ আখতারকে জানালে, সে অত্যন্ত কদর্য মন্তব্য করে। তৌসিফ ওই কর্মীকে বলে, যদি তিনি সন্তান চান তবে যেন তাঁর স্ত্রীকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন! শুধু তাই নয়, প্রতিবাদ করায় ওই কর্মীকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় এবং তাঁর দিকে টেবিল ফ্যান ছুঁড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর সব তথ্য। অভিযোগ, অফিসের ভেতর রীতিমতো চক্র চালিয়ে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের টার্গেট করা হতো। তাঁদের ওপর যৌন হেনস্থা চালানোর পাশাপাশি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হতো। এমনকি অফিসের কাজ সেরে জোর করে হোটেলে ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে ২০২২ সাল থেকে। আক্রান্ত কর্মীরা এইচআর-এর কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হতো, “এসব তো হয়েই থাকে”। বর্তমানে পুলিশ ৯টি এফআইআর দায়ের করেছে এবং তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে।





