পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বর্তমানে দুটি প্রধান ঘটনা নিয়ে সরগরম পরিস্থিতি। একদিকে যেখানে সংসদ চত্বরে ‘SIR’ (State of India’s Republic) নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, অন্যদিকে আর জি কর হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন মামলায় এক বছর পরও বিচার না মেলায় উত্তপ্ত প্রতিবাদে নেমেছে বিভিন্ন সংগঠন।
SIR বিতর্কে বিরোধীদের একজোট চিঠি স্পিকারকে
‘SIR’ বিষয়টি নিয়ে সংসদে আবারও আলোচনার জন্য একজোট হয়েছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, এবং আরজেডি সহ বিরোধী জোটের সদস্যরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে যৌথভাবে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এই চিঠিতে তারা ‘SIR’ সংক্রান্ত বিষয়ে অবিলম্বে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। এর আগেও এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে একাধিকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে এবং বিরোধীরা সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছিল। এবারের চিঠিটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিরোধীরা এই ইস্যুতে সরকারের উপর চাপ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
আর জি কর কাণ্ডে বিচার চেয়ে ‘ঝাঁটা হাতে’ পথে প্রতিবাদীরা
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এক বছর কেটে গেলেও বিচার না মেলায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ এবং চিকিৎসক সমাজ। এই আবহে আজ ‘অভয়া মঞ্চ’ এবং ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স’ যৌথভাবে সিজিও কমপ্লেক্সের (সাবেক সিবিআই দফতর) সামনে এক অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল করে আসা প্রতিবাদকারীদের হাতে ছিল ঝাঁটা, যা দিয়ে তারা প্রতীকীভাবে সিবিআই দফতর “সাফাই” করার দাবি জানায়। তাদের মূল স্লোগান ছিল, “তিলোত্তমার বিচার চাই।”
উল্লেখ্য, গত বছর ৯ অগাস্ট আর জি করের এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামের একজন বর্তমানে জেলবন্দি। কিন্তু প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, এক বছর হতে চললেও মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই এবং অভিযুক্তরা বিচার থেকে রেহাই পাচ্ছে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত চিকিৎসক পুণ্যব্রত গুঁই বলেন, “সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট না দেওয়ায় টালা থানার ওসি এবং সন্দীপ জামিন পেয়েছে। অভয়ার বাবা-মা প্রায় দু’মাস আগে দিল্লিতে সিবিআই ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার অভয়ার বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে সঞ্জয় রায়ই দোষী।” যদিও সিবিআই দফতর এখন সিজিও কমপ্লেক্স থেকে অন্যত্রে সরে গেছে, অভয়া মঞ্চের সাত সদস্য একটি ডেপুটেশন জমা দিতে সক্ষম হন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিচার না মেলা পর্যন্ত এই আন্দোলন জারি থাকবে।





