আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। বিরোধীদের তীব্র আপত্তি এবং দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির আশঙ্কার মধ্যেই মোদি সরকার পেশ করতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘আসন পুনর্বিন্যাস বিল’ এবং ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। এই বিলগুলির মূল লক্ষ্য লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রীয় সরকারের খসড়া অনুযায়ী, লোকসভার প্রস্তাবিত ৮৫০টি আসনের মধ্যে ৮১৫টি রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য বরাদ্দ করা হবে। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করবেন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলটি পেশ করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কোন রাজ্যের জন্য কত শতাংশ আসন থাকবে, তার একটি নির্দিষ্ট তফশিলও আনতে চলেছে কেন্দ্র, যাতে আসন সংখ্যা বাড়লেও আনুপাতিক ভারসাম্যে কোনো হেরফের না হয়।
তবে এই পরিকল্পনা ঘিরেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি এবং ওড়িশার অভিযোগ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরস্কার পাওয়ার বদলে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের গুরুত্ব কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীদের প্রধান প্রশ্ন ‘টাইমিং’ নিয়ে। সংবিধানের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সাধারণত জনগণনার রিপোর্ট প্রকাশের পর করা হয়। কিন্তু করোনার কারণে ২০২১ সালের জনগণনা হয়নি এবং নতুন জনগণনা আজ থেকেই শুরু হওয়ার কথা। বিরোধীদের দাবি, জনগণনার চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগেই কেন এই ‘তাড়াহুড়ো’? তাদের অভিযোগ, ২০২৯-এর ভোট মাথায় রেখেই এই পথে হাঁটছে কেন্দ্র। লোকসভার সর্বোচ্চ আসন সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা ৫৫২ থেকে ৮৫০ করার এই প্রস্তাব ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।





