বাংলার রাজনীতিতে পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই কি তবে টলিউডের হাওয়াও ঘুরতে শুরু করল? শুক্রবার বঙ্গে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হতেই ছোটপ পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল দত্তের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। যা দেখে নেটিজেনদের একাংশ বলছেন— “সুবিধাবাদী রাজনীতির জলজ্যান্ত উদাহরণ!”
রাতভর ভাইরাল সেই পুরনো ছবি
শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন সোহেল। সেখানে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন! আশা করছি তিনি বাংলা ও বাংলার সিনেশিল্পের উন্নতির জন্য সবকিছু করবেন।” এই পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল, কিন্তু গোল বাঁধল পোস্টের সাথে থাকা ছবিটি নিয়ে। সোহেল শুভেন্দুর সাথে তাঁর এমন একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তাঁর পোশাকে স্পষ্ট লেগে ছিল বিজেপির পদ্ম প্রতীক।
ছবিটি পোস্ট হতেই শুরু হয় ট্রোল ও কটাক্ষের বন্যা। পরিস্থিতির বেগ বুঝে অভিনেতা দ্রুত সেই বিতর্কিত ছবি সরিয়ে দিলেও শুভেচ্ছা বার্তাটি এখনও রয়ে গেছে তাঁর পেজে।
‘দিদিতেই শান্তি’ থেকে শুভেন্দুর শরণে
সোহেলের এই ‘ইউ-টার্ন’ দেখে থমকে গেছেন অনেকেই। কারণ গত কয়েক বছরে তৃণমূলের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা গেছে তাঁকে। ২০২১ সালের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ হোক বা ছাব্বিশের নির্বাচনে মমতার ভবানীপুরের রোড শো— সব জায়গাতেই সোহেল ছিলেন সামনের সারিতে। একসময় তিনি জোর গলায় বলেছিলেন, “দিদিতেই শান্তি”। কিন্তু রাজ্যে বিজেপির জয় আসতেই সেই শান্তি যেন উবে গেছে!
পুরনো বিবাদ কি তবে অতীত?
২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিলেও মাত্র দু’বছরের মাথায় মোহভঙ্গ হয়েছিল সোহেলের। সে সময় তৃণমূলে ফিরে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সোহেল দাবি করেছিলেন, শুভেন্দু তাঁর বাড়িতে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেননি। এমনকি বিজেপি শিল্পীদের সম্মান করতে পারে না বলেও তোপ দেগেছিলেন তিনি। অথচ আজ ক্ষমতার পাল্লা ভারী হতেই সেই শুভেন্দুর ছবি পোস্ট করে উন্নতির আশা দেখছেন অভিনেতা।
তিয়াসাকে নিয়েও জল্পনা
সোহেলের প্রেমিকা তথা অভিনেত্রী তিয়াসা লেপচাও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। গত বছর মমতার বাড়ির কালীপুজোতেও তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। গুঞ্জন ছিল ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তারকা জুটির রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
শহরের এক প্রবীণ চিত্র সাংবাদিকের কথায়, “টলিউডে এই রঙ বদলের খেলা নতুন নয়, তবে সোহেলের এই দ্রুত ভোলবদল যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।”





