বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবনের চার দেওয়াল ছেড়ে এ বার শপথের মঞ্চ হয়েছিল খোদ ব্রিগেডের প্যারেড গ্রাউন্ড। রাজ্যপাল আরএন রবির উপস্থিতিতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে বাংলার শাসনভার কাঁধে তুলে নিলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের জয়ী বিধায়ক।
মন্ত্রিসভায় জাতপাতের ‘পারফেক্ট’ ব্যালেন্স এ দিন শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারীই নন, তাঁর সঙ্গে শপথ নিয়েছেন আরও ৫ জন বিধায়ক। বিজেপির এই প্রথম মন্ত্রিসভা গঠনে সুকৌশলী সামাজিক ভারসাম্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। ব্রাহ্মণ, কায়স্থর পাশাপাশি আদিবাসী, মতুয়া এবং রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের ঠাঁই দিয়ে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার সব স্তরের মানুষের।
শুভেন্দুর ক্যাবিনেটের প্রথম ৫ সেনাপতি:
দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর): খড়গপুর সদরে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। একজন ওবিসি (OBC) মুখ হিসেবে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তাঁকে কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
অগ্নিমিত্রা পল (আসানসোল দক্ষিণ): বিপুল জনসমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া অগ্নিমিত্রা পল এ দিনের শপথে একমাত্র মহিলা মুখ। কায়স্থ সম্প্রদায়ের এই লড়াকু নেত্রীকে কোন দপ্তরের ভার দেবেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
অশোক কীর্তনিয়া (বনগাঁ উত্তর): মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে ঠাঁই পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ককে সংহত রাখতে তাঁকে ক্যাবিনেটে রাখা মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষুদিরাম টুডু (রানিবাঁধ): জঙ্গলমহলের আদিবাসী আবেগ উসকে দিয়ে এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু। মনে করা হচ্ছে, আদিবাসী উন্নয়ন সংক্রান্ত কোনো দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।
নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙা): উত্তরবঙ্গের রাজবংশী নেতা নিশীথ প্রামাণিককেও রাখা হয়েছে প্রথম দফার তালিকায়। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন বা ওই সংক্রান্ত কোনো দপ্তরের পূর্ণ দায়িত্ব তাঁর কাঁধে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও নতুন জমানা এ দিনের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং মঞ্চে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের অভিনন্দন জানান। এ এক বিরল দৃশ্য, যেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থেকে বাংলার নতুন সরকারকে আশীর্বাদ করলেন। যদিও এ দিন দপ্তর বণ্টন করা হয়নি, তবে সোমবারের ক্যাবিনেট বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কে থাকছেন কোন চেয়ারে।
বাংলার রাজনীতিতে ৫৭ বছর বয়সী অবিবাহিত এই নেতার হাত ধরে এক নতুন জমানা শুরু হল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, এই নতুন টিম ‘সোনার বাংলা’ গড়তে কতটা সফল হয়।





