বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও, উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় হিংসার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটল। মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হওয়া সত্ত্বেও, বামনপুকুর এলাকায় তৃণমূলের এক মহিলা জনপ্রতিনিধির ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ সামনে আসায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে মিনাখাঁর বামনপুকুর এলাকায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মহুয়া সর্দার মাইতির বাসভবনে অতর্কিতে চড়াও হয় একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা বাড়ির দরজা-জানলা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তান্ডব চালায়। ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি আলমারি ভেঙে নগদ ৫ লক্ষ টাকা, দুটি দামি মোবাইল ফোন এবং কয়েক ভরি সোনার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
ঘটনার ভয়াবহতা এখানেই শেষ নয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বাড়ির মহিলাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং শ্লীলতাহানি করে। এমনকি মহুয়া সর্দার মাইতির মেয়েকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়।
মহুয়ার স্বামী উজ্জ্বল মাইতি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “অমলবিন্দু প্রামাণিক ও সৌরভ দাসের নেতৃত্বে একদল কুখ্যাত দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। ওরা সব লুট করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আমাদের মেয়েকেও ছাড়েনি। এলাকায় আমাদের রাজনৈতিক প্রভাব নষ্ট করতেই এই চক্রান্ত।”
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপি পরাজয়ের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে দাবি করেছে। মিনাখাঁ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে পুলিশি টহল জারি রয়েছে।





