রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ দফতর। ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের অযোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR 2026) প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
৬৩ লক্ষ কার্ড বাতিলের পথে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৩ লক্ষ এমন নাম চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী অযোগ্য। এসআইআর ২০২৬-এর রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই ব্যক্তিদের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার একটি বিশেষ সুরক্ষাকবচও রেখেছে; যদি কোনো ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সত্ত্বেও তিনি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি লড়াই বা ট্রাইব্যুনালে আপিল করে থাকেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের রেশন পরিষেবা আপাতত বন্ধ করা হবে না।
লক্ষ্য ১৫ হাজার কোটির অপচয় রোধ বর্তমানে রাজ্যের প্রায় দুই কোটি মানুষ ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন। এই বিশাল কর্মকাণ্ডে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের ‘লিকেজ’ বা অপচয় রুখতেই নবান্ন এবার মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
কীভাবে চলবে যাচাইকরণ? নির্দেশিকা অনুযায়ী:
ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (BDO) এবং সাব-ডিভিশনাল অফিসার (SDO)-দের মাধ্যমে অযোগ্যদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
এরপর খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা সরাসরি এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করবেন।
যাচাইকরণ শেষে চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী অযোগ্যদের কার্ডগুলি স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে।
কেবল রেশন নয়, নজর ধান সংগ্রহেও সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কেবল রেশন কার্ড নয়, ধান সংগ্রহ থেকে শুরু করে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি রুখতে তল্লাশি চালানো হবে। সরকারের এই নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপে রেশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।





