রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাত বাংলার রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে আজ পয়লা বৈশাখের দিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের একটি ভিডিও বার্তা সেই আগুনেই ঘি ঢালল। রাজভবন থেকে দেওয়া বার্তায় তিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরাসরি তরুণ প্রজন্মকে ‘পরিবর্তনের’ কারিগর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যা শোনার পরই পাল্টা তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যপাল কী বললেন?
এদিন রাজ্যপাল তাঁর বার্তায় বলেন:
পিছিয়ে পড়া বাংলা: “শিক্ষা, শিল্প এবং সুরক্ষায় বাংলা একসময় দেশকে পথ দেখাত। আজ সেই গৌরব ম্লান। বাংলা আর এভাবে পিছিয়ে থাকতে পারে না।”
তরুণদের ডাক: তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তরুণ প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজ্যে এক প্রকৃত ‘পরিবর্তন’ আনতে হবে।
রাজভবনের ভূমিকা: তিনি নিজেকে কেবল একজন সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে না দেখে, বাংলার মানুষের ‘পাহারাদার’ হিসেবে তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পাল্টা: “লাটসাহেব” কটাক্ষ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বার্তার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন:
সীমা লঙ্ঘন: “রাজ্যপাল নিজের সাংবিধানিক গণ্ডি ভুলে বিজেপির মুখপাত্রের মতো কাজ করছেন। রাজভবন এখন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
লাটসাহেবি তকমা: মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “লাটসাহেবি করে বাংলার উন্নয়ন আটকানো যাবে না। নির্বাচিত সরকারকে জ্ঞান না দিয়ে উনি বরং নিজের দায়িত্ব পালন করুন।”
উন্নয়নের খতিয়ান: মমতা দাবি করেন, বাংলা যখন একের পর এক কেন্দ্রীয় পুরস্কার পাচ্ছে, তখন রাজ্যপাল নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে বাংলাকে অপমান করছেন।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
বিরোধীরা (বিজেপি) রাজ্যপালের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, তিনি বাংলার মানুষের মনের কথা বলেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব রাজ্যপালের এই সক্রিয়তাকে ‘অতি-সক্রিয়তা’ বলে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা ভাবছে।
বিশেষ বক্তব্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে রাজ্যপালের এই ‘পরিবর্তনের ডাক’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘তীব্র প্রতিরোধ’ আগামী দিনগুলিতে রাজ্য-রাজ্যপাল সম্পর্কের আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।





