সম্পর্কের চেনা সমীকরণ ও সামাজিক রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক অদ্ভুত ও জটিল ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকা। ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী, যাকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘বাবা’ সম্বোধন করে আসছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির সাথেই ঘর ছাড়লেন। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা পারিবারিক পটভূমি আরও বেশি চমকে দেওয়ার মতো।
তদন্তে জানা গেছে, ওই তরুণীর মা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অন্য এক নারীর সাথে সমকামী ‘লিভ-ইন’ (Live-in Relationship) সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। মায়ের এই ভিন্নধর্মী জীবনযাপনের সমান্তরালে, তরুণীটি এমন এক পুরুষের সান্নিধ্যে আসেন যাকে তিনি পারিবারিক সূত্রে ‘বাবা’ বলে ডাকতেন।
জটিল সম্পর্কের অন্দরমহল: স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে খবর, মায়ের সমকামী সম্পর্কের কারণে পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের মানসিক দূরত্ব ও টানাপোড়েন চলছিল। তরুণীটি তাঁর মায়ের জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই, যাকে তিনি ভরসার জায়গা বা অভিভাবক হিসেবে ‘বাবা’ সম্বোধন করতেন, তাঁর সাথেই তাঁর মানসিক ও আবেগঘন ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে সেই ঘনিষ্ঠতা প্রেমের রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁরা দুজনে একসাথে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য: ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে মায়ের সমকামী লিভ-ইন সম্পর্ক, অন্যদিকে মেয়ের ‘বাবা’ তুল্য মানুষের সাথে পালিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে আধুনিক সম্পর্কের এই চরম টানাপোড়েন ও জটিল রূপ দেখে হতবাক অনেকেই।
পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই এই নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি করা হয়েছে। তরুণীটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনগতভাবে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে, তবে সম্পর্কের এই জটিল বুনন নিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও মনস্তাত্ত্বিকরা খতিয়ে দেখছেন। পারিবারিক ভাঙন এবং একাকীত্বই তরুণীকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।





