লোকসভায় মোদী সরকারের মেগা সংবিধান সংশোধনী বিল মুখ থুবড়ে পড়তেই ময়দানে নামলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট জোগাতে না পেরে সরকারের এই পরাজয়কে ‘গণতন্ত্র ও সংবিধানের চূড়ান্ত জয়’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। সংসদের নিম্নকক্ষে ভোটাভুটির ফলাফল সামনে আসতেই প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
“সংবিধানকে রক্ষা করল দেশবাসী”
বিলটি খারিজ হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কড়া ভাষায় বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল:
জনগণই শেষ কথা: প্রিয়াঙ্কার দাবি, সরকার ভেবেছিল সংসদকে তাঁরা নিজেদের ইচ্ছেমতো চালনা করবে, কিন্তু বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রমাণ করেছে যে সংবিধান সবার উপরে।
অহংকারের পতন: তিনি বলেন, “এই সরকার সংবিধানকে খেলনা মনে করেছিল। আজ লোকসভায় ভোটাভুটির পর স্পষ্ট হয়ে গেল যে, জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ।”
ইন্ডিয়া জোটের সাফল্য: এই জয়কে ইন্ডিয়া (I.N.D.I.A.) জোটের সংহতির ফসল হিসেবে দেখছেন তিনি।
কেন এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলছেন প্রিয়াঙ্কা?
সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিলটি নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতে, সরকার নারীদের অধিকারের আড়ালে আসলে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছিল। বিরোধীদের সুসংগঠিত প্রতিবাদের কারণেই সরকার আজ ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে।
মোদীর অস্বস্তি বাড়ালেন প্রিয়াঙ্কা
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪-এর নির্বাচনের পর থেকেই লোকসভার সমীকরণ বদলেছে। তিনি বলেন, “এখন আর কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। সরকারকে বুঝতে হবে যে বিরোধীদের কথা না শুনলে প্রতি পদক্ষেপে এমন পরাজয় বরণ করতে হবে।”
উপসংহার
সংসদে বিল আটকানো কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং প্রিয়াঙ্কার কাছে এটি একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। এই জয়ের রেশ ধরে আগামী দিনের নির্বাচনী ময়দানে কংগ্রেস যে আরও আক্রমণাত্মক হবে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর কথাতেই তার ইঙ্গিত মিলল।





