তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিদের গ্রেপ্তারের তালিকা যেন আর শেষ হওয়ার নাম নিচ্ছে না। এবার এক মহিলার শ্লীলতাহানি, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল। রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
কী অভিযোগ বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে? পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব পুঁটিয়ারির এক মহিলা অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ গঙ্গাপুরী স্কুলের কাছে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ মণ্ডল তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করেন এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এখানেই শেষ নয়, অভিযোগকারীর দাবি, গত ৯ মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর আবারও ওই কাউন্সিলর তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। ঘটনার পর ১ জুন ওই মহিলা সাহস সঞ্চয় করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে।
পুরসভায় গ্রেপ্তারের হিড়িক গত কয়েক দিনে কলকাতা পুরসভার একের পর এক কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রশাসনের অন্দরে এক অভূতপূর্ব সংকটের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের গ্রেপ্তারের তালিকাটি দেখলে বোঝা যায় পরিস্থিতির গুরুত্ব:
বিশ্বজিৎ মণ্ডল (১১৪ নম্বর ওয়ার্ড): শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার।
মহেশ কুমার শর্মা (৪২ নম্বর ওয়ার্ড): তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে বুধবার গ্রেপ্তার।
অরিজিৎ দাস ঠাকুর (১০৬ নম্বর ওয়ার্ড): তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার।
শচীন সিং (৩৬ নম্বর ওয়ার্ড): তোলাবাজির অভিযোগে গত ২ জুন গ্রেপ্তার।
সুদীপ পোল্লে (১২৩ নম্বর ওয়ার্ড): তোলাবাজির অভিযোগে ২৩ মে গ্রেপ্তার।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল একের পর এক কাউন্সিলর গ্রেপ্তার এবং তার সাথে মেয়র ও মেয়র পারিষদদের পদত্যাগের গুঞ্জনে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ওঠা এই একের পর এক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ এবং তাদের গ্রেপ্তারের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে।
প্রশাসনিক এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত কলকাতার নাগরিক পরিষেবার ওপর কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। একের পর এক গ্রেপ্তারের এই ধারা কি এখানেই থামবে, নাকি পুরসভার আরও অনেক প্রতিনিধি আইনত বিপাকে পড়তে চলেছেন, তা নিয়ে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক ও জল্পনা।





