দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক মহাপ্রলয় ঘটে গেল। রূপালি পর্দার ম্যাজিক এবার রাজনীতির ময়দানেও কার্যত সুপারহিট। জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (TVK) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে যে পারফরম্যান্স দেখাল, তাকে এক কথায় ‘রাজনৈতিক সুনামি’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিনের শক্তিশালী শাসক দল ডিএমকে (DMK)-কে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে সরকার গঠনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন বিজয়। প্রথমবার নির্বাচনে নেমেই ১০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করে দাক্ষিণাত্যের নতুন ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন থালাপতি।
তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে রোমহর্ষক এবং অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে তিরুপত্তুর বিধানসভা কেন্দ্রে। আধুনিক ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে যা বিরলতম ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই কেন্দ্রে TVK প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি মাত্র ১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন হেভিওয়েট ডিএমকে প্রার্থী কে আর পেরিয়াকারুপ্পানকে। ১ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি ভোটারের এই কেন্দ্রে লড়াই এতটাই হাড্ডাহাড্ডি ছিল যে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করতে হয়েছে রাজনৈতিক মহলকে। ফলাফলে দেখা গেছে, শ্রীনিবাস সেতুপতি পেয়েছেন ৮৩,৩৭৫টি ভোট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে প্রার্থী পেয়েছেন ৮৩,৩৭৪টি ভোট। মাত্র একটি ভোট যে গণতন্ত্রে কতটা নির্ণায়ক হতে পারে, তিরুপত্তুরের এই ফল তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। এই কেন্দ্রে বিজেপির থিরুমারান কে.সি মাত্র ২৯,০৫৪টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
সামগ্রিক ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ১০৮টি আসন জিতে তামিলনাড়ুর একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের TVK। যেখানে ডিএমকে থেমে গিয়েছে ৫৯-৬০টি আসনে এবং এআইএডিএমকে (AIADMK) ৪৭টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। বিজয়ের এই উত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের দ্বিমেরু রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বুঝিয়ে দিল, মানুষের সমর্থন থাকলে একটি নতুন শক্তি কত দ্রুত সমস্ত সমীকরণ বদলে দিতে পারে। থালাপতি বিজয়ের এই জয় দক্ষিণী রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করল।





