মহিলা সংরক্ষণ ও ডিলিমিটেশন বিলে ‘না’ বিরোধীদের, ভোটাভুটিতে হারল মোদী সরকার

২০২৩ সালে সর্বসম্মতিতে পাশ হলেও ২০২৬-এ এসে বড়সড় বাধার মুখে পড়ল মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত নতুন সংশোধনী বিল। শুক্রবার রাতে লোকসভায় ভোটাভুটিতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ল মোদী সরকারের এই বিল। আসন বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের সংস্থান রাখা এই বিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি সরকার।

ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে ব্যর্থ কেন্দ্র সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য যে সংখ্যার প্রয়োজন ছিল, ভোটাভুটির শেষে দেখা যায় তা জোটেনি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • মোট অংশগ্রহণকারী সাংসদ: ৪৮৯ জন।

  • পাসের জন্য প্রয়োজনীয় ভোট (২/৩ অংশ): ৩২৬টি।

  • বিলের পক্ষে ভোট: ২৭৮টি।

  • বিলের বিপক্ষে ভোট: ২১১টি। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় সংখ্যার থেকে ৪৮টি ভোট কম পাওয়ায় লোকসভায় খারিজ হয়ে গেল এই বিল।

কেন এই প্রবল বিরোধিতা? বিরোধীদের মূল আপত্তির জায়গা ছিল আসন বৃদ্ধি এবং জনগণনার আগে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেনুগোপাল এই বিলকে সরাসরি ‘অসাংবিধানিক’ বলে তোপ দাগেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, “মহিলা কোটা সমর্থন করি, কিন্তু আগে জনগণনা করা হচ্ছে না কেন?” ডিএমকে (DMK) ও আরএসপি (RSP)-র মতো দলগুলোও অভিযোগ করেছে, এই বিল আসলে মহিলাদের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থে সীমানা পুনর্বিন্যাস করার জন্য আনা হয়েছে।

অমিত শাহের কড়া জবাব বিরোধীদের পাল্টা জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি চলছে এবং কেন্দ্র জাতিভিত্তিক জনগণনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, “ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।” যদিও শাহের এই আশ্বাস বিরোধীদের টলাতে পারেনি।

বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই এর আগে ইউপিএসসি (UPSC) ল্যাটারাল এন্ট্রি বা এক দেশ এক নির্বাচনের মতো বিষয়গুলোতেও কেন্দ্রকে চাপে রেখেছিল বিরোধীরা। শুক্রবার রাতের এই ভোটাভুটি প্রমাণ করল, ইন্ডিয়া (INDIA) জোট এই বিলে একজোট হয়ে ভোট দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা পুরোপুরি সফল। এই ব্যর্থতার ফলে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া আবারও আইনি জটিলতায় আটকা পড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy