বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর এবার তৃণমূলের অন্দরে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘুটিয়ারি শরীফের নারায়ণপুরে এক দাপুটে তৃণমূল নেতার অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধার ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় তৃণমূল নেতা সালাউদ্দিন সর্দারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৮টি ধারালো বাঁকানো অস্ত্র। এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপন খবরের ভিত্তিতে নারায়ণপুরের ওই তৃণমূল অফিসে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর অফিসের একটি গোপন কক্ষ থেকে ব্যাগে ভরা অবস্থায় অস্ত্রগুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ যখন একে একে বড় বড় ধারালো অস্ত্রগুলো বের করে আনছিল, তখন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা ভয়ে সিঁটিয়ে যান। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের ধরন দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এগুলি সাধারণ কোনো বিবাদের জন্য নয়, বরং বড়সড় কোনো নাশকতামূলক কাজ বা ভোট-পরবর্তী হিংসার লক্ষ্যেই মজুত করা হয়েছিল।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, “ভোটের ফল যদি অন্যরকম হতো, তবে এই অস্ত্রগুলি দিয়ে হয়তো রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া হতো।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অনেকের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর কারণেই পুলিশ এখন সক্রিয় হতে পারছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সালাউদ্দিন সর্দারের এই অফিস আদতে ছিল দুষ্কৃতীদের আখড়া। যদিও সালাউদ্দিন বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। দলের একাংশ বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
বর্তমানে রাজ্যে নির্বাচনোত্তর অশান্তি চলছে। একাধিক জেলা থেকে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির খবর আসছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হিংসার কবলে পড়ে ইতিমধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সালাউদ্দিন সর্দারের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “আমরা কোনো বিশেষ দলকে টার্গেট করছি না। বেআইনি অস্ত্র যেখানেই থাকুক, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।”





