ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবার বেনজির পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে বা বিরোধী পক্ষের ঘরবাড়ি ভাঙতে জেসিবি (JCB) ভাড়া করলেই কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে মালিক এবং ভাড়াটে—উভয়কেই। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় এই হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত। একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তী অশান্তিতে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজনৈতিক হিংসার খবর আসছিল। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে বাড়িঘর গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ধরনের ‘বুলডোজার সন্ত্রাস’ রুখতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন।
ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তের কড়া বার্তা: পুলিশের শীর্ষ কর্তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেসিবি বা এই জাতীয় ভারী যন্ত্রাংশ কোনো ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। যদি দেখা যায় কোনো জেসিবি মেশিন দিয়ে কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা ঘরবাড়ি ভাঙা হচ্ছে, তবে তৎক্ষণাৎ ওই মেশিনটি বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি সেই জেসবির মালিক এবং যারা সেটি ভাড়া নিয়ে হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হবে।
গ্রেফতারির মেগা ড্রাইভ: শান্তি বজায় রাখতে রাজ্য পুলিশ গত কয়েক দিনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে। ডিজি জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৪০০ জন অভিযুক্তকে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে এবং এই অভিযান জারি থাকবে।
পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, কোথাও কোনো অশান্তি দেখলে বা জেসবির অপব্যবহার হতে দেখলে দ্রুত স্থানীয় থানায় খবর দিতে।





