বাংলায় পরিবর্তনের ঝড়ে তৃণমূলের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটার রেশ এবার পৌঁছে গেল নিচুতলার রাজনীতিতেও। লোকসভা বা বিধানসভা নয়, খাস গাইঘাটায় এক অন্যরকম ছবি ধরা পড়ল বুধবার সকালে। ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের দখলে থাকা একটি পার্টি অফিস ‘দখলমুক্ত’ করালেন এলাকার নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে গাইঘাটা এলাকা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েক বছর ধরে ওই কার্যালয়টি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে ছিল। বিজেপির অভিযোগ, গায়ের জোরে তাঁদের কাছ থেকে এই অফিসটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে বসেই চলত শাসকদলের নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তবে শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগেই এবার অ্যাকশন মোডে দেখা গেল গেরুয়া শিবিরকে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হওয়ার পরেই আজ সকালে নিজের অনুগামীদের নিয়ে ওই পার্টি অফিসের সামনে হাজির হন বিজেপি প্রার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কোনো বড় ধরণের সংঘাত ছাড়াই পার্টি অফিসের গেটে নতুন করে গেরুয়া নিশান লাগিয়ে দেওয়া হয়। দেওয়াল থেকে তৃণমূল নেত্রীর পোস্টার সরিয়ে সেখানে নতুন নামফলক ঝোলানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জয়ী প্রার্থীর দাবি, “এতদিন সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খোলেনি। আজ মানুষের জয়ের দিন। যে অফিসগুলো অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছিল, সেগুলো আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।”
পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ফলাফল প্রকাশের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে এবং জোর করে দলীয় কার্যালয় দখল করা হচ্ছে। যদিও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
গাইঘাটার এই ‘অফিস উদ্ধার’ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ঘটনা বাংলার আসন্ন নতুন প্রশাসনিক মেজাজেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন নবান্ন দখলের মহোৎসব চলছে, তখন বীরভূম থেকে গাইঘাটা— সর্বত্রই ঘাসফুল শিবিরের দাপট ফিকে হতে শুরু করেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি শান্ত থাকে নাকি উত্তাপ আরও বাড়ে, এখন সেটাই দেখার।





