পনেরো বছরের অন্ধকার ঘুচবে কি? চাকরি খুইয়ে আজ নিঃস্ব হাজারো শিক্ষক, বিজেপি সরকারের কাছে কোন ‘গোপন’ আর্জি তাঁদের?

বাংলায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূল জমানার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিতে চলেছে বিজেপি। এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের আবহে সবথেকে বেশি আশার আলো দেখছেন তাঁরাই, যাঁরা গত কয়েক বছরে নিয়োগ দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ঘর-সংসার ও জীবিকা হারিয়েছেন। চাকরিহারা শিক্ষকদের এখন একটাই প্রশ্ন— নতুন সরকারের সূর্যোদয় কি তাঁদের জীবনেও সুদিন ফিরিয়ে আনবে?

বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতির কারসাজিতে যাঁদের নাম মেধাতালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল, তাঁদের আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে কলকাতার রাজপথ। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ধর্নামঞ্চে বসে থাকা সেই প্রার্থীরা এখন বিজেপির নতুন সরকারের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।

বঞ্চিত শিক্ষকদের প্রধান ৩টি দাবি:

  • স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া: মেধার ভিত্তিতে দ্রুত তালিকা প্রকাশ করে যোগ্যদের অবিলম্বে স্কুলে নিয়োগ করতে হবে।

  • আইনি জটমুক্তি: নিয়োগ সংক্রান্ত ঝুলে থাকা মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করে প্রশাসনিক স্তরে বাধা দূর করা।

  • বয়সের ছাড়: দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে যাঁদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা।

চাকরিহারা এক আন্দোলনকারী নেতার কথায়, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের অনুদান চাই না, আমরা আমাদের মেধার মর্যাদা চাই। গত সরকার আমাদের রাস্তায় বসিয়েছিল, আশা করি এই সরকার আমাদের ক্লাসরুমে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি নির্বাচনী ইস্তাহারে দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করাই এখন নতুন সরকারের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। নবান্ন থেকে শমীক ভট্টাচার্যর বড় ঘোষণার পর এখন হবু শিক্ষকদের নজর শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে।

নতুন সরকার কি পারবে দুর্নীতির কালি মুছে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করতে? নাকি যোগ্য প্রার্থীদের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘ হবে? এই উত্তরের অপেক্ষায় এখন লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই মুহূর্তে ‘যোগ্যদের নিয়োগ’ নিয়ে হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং হতে শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy