ড্রাগনের ডেরায় ভারতের ‘ব্রহ্মাস্স্ত্র’! ভিয়েতনামের হাতে ব্রহ্মস তুলে দিয়ে কি শি জিনপিংয়ের কফিনে শেষ পেরেক পুতছেন মোদী?

দক্ষিণ চীন সাগরে চিনের একাধিপত্য আর দাদাগিরির দিন কি এবার শেষ হতে চলেছে? বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুদূরপ্রসারী ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি এবার ড্রাগনের বুক কাঁপিয়ে দিচ্ছে। ফিলিপিন্সের পর এবার ভারতের লক্ষ্য ভিয়েতনাম। খবর চাউর হতেই ৩,৭০০ কিলোমিটার দূরে বেইজিংয়ে বসে থাকা শি জিনপিংয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।

ভিয়েতনামের হাতে ব্রহ্মস: জিনপিংয়ের দুঃস্বপ্ন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম বর্তমানে তিন দিনের ভারত সফরে রয়েছেন। এই সফরের মূল আকর্ষণই হলো ভারতের তৈরি বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos)। সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ বিলিয়ন টাকার বিনিময়ে এই মারণাস্ত্র ভিয়েতনামের হাতে তুলে দিতে চলেছে ভারত। এই চুক্তিটি কেবল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাবেচা নয়, বরং দক্ষিণ চীন সাগরে চিনের গায়ের জোর রুখতে এক বড় ধরণের রণকৌশল।

কেন আতঙ্কিত চিন? ১. অজেয় ব্রহ্মস: ব্রহ্মস মিসাইলের গতি ও লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা এতটাই নির্ভুল যে চিনের কোনো রাডার বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একে শনাক্ত করতে পারবে না। ভিয়েতনামের উপকূলে এই মিসাইল মোতায়েন হওয়া মানেই হলো চিনা যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য দক্ষিণ চীন সাগরে যাতায়াত যমদূতের মুখোমুখি হওয়ার সমান। ২. নিরাপত্তা ঢাল: ভিয়েতনামের জেলেদের ওপর চিনা নৌবাহিনীর অত্যাচার দীর্ঘদিনের। ভারতের এই মিসাইল ভিয়েতনামের জন্য একটি ‘নিরাপত্তা ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে, যা ড্রাগনকে নিজের জলসীমায় আটকে রাখতে বাধ্য করবে।

ভারতের গ্লোবাল পাওয়ার হাউস হয়ে ওঠা কয়েকদিন আগেই ভারত ফিলিপিন্সকে ব্রহ্মসের চালান পাঠিয়েছে। এবার ভিয়েতনামের সঙ্গে এই চুক্তি প্রমাণ করছে যে, ভারত এখন কেবল অস্ত্র আমদানিকারক দেশ নয়, বরং বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির এক নতুন শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি চিনের প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে এক যোগ্য জবাব। এতকাল চিন ভারতের প্রতিবেশীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ভারতকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করত, এবার মোদী সরকার সেই একই চালে চিনকে তার নিজের ডেরায় কোণঠাসা করছে।

ভিয়েতনাম ব্রহ্মস সজ্জিত হওয়ার অর্থ হলো এশিয়ায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি অভিমুখে সরে আসা। রাশিয়ার প্রযুক্তিতে ভারতের তৈরি এই মিসাইল এখন বিশ্বের ১৭টি দেশের নজরে। বিশ্ব রাজনীতির হাওয়া বদলে গিয়েছে; ভারত এখন আর চুপ করে থাকে না, বরং শত্রুর শত্রুকে শক্তিশালী করে ড্রাগনকে তার নিজের ভাষাতেই পালটা জবাব দিচ্ছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কি চূড়ান্ত হতে চলেছে এই ঐতিহাসিক চুক্তি? উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব, আর আতঙ্কে প্রহর গুনছে বেইজিং।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy