ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। মূলত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া (Barbed-Wire Fencing) নির্মাণ, বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) স্থাপন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্য সরকার আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মোট ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। সেই প্রতিশ্রুতির অঙ্গ হিসেবেই গত ২০ মে নবান্নে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই জমি হস্তান্তরের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। মূলত রাজ্যের ৯টি সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর, কোচবিহারে ২২.৯২৫ একর, মুর্শিদাবাদে ৩৮.৮০৫ একর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর। এছাড়াও মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলোতেও নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হস্তান্তরিত এই ১৪২.৭৯ একর জমির মধ্যে রয়েছে ৪৩ একর কেনা জমি এবং ৩১.৯ একর সরকারি খাস জমি। সীমান্ত নিরাপত্তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর এই নতুন পরিকাঠামো নির্মাণের ফলে বিএসএফ জওয়ানরা আরও শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে তা সামগ্রিকভাবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনগণের মধ্যেও এক ধরনের স্বস্তি ও নিরাপত্তার বাতাবরণ তৈরি করবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।





