বেঙ্গালুরুতে প্রকৃতির তাণ্ডবে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিপর্যয়। প্রবল বৃষ্টি আর বজ্রপাতের মধ্যে হাসপাতালের পুরনো দেওয়াল ধসে পড়ে প্রাণ হারালেন অন্তত সাত জন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃতদের তালিকায় রয়েছে দুই নিষ্পাপ শিশুও। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আরও সাত জন গুরুতর জখম হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার বিকেল থেকেই বেঙ্গালুরু শহরে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড বলছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শহরে ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শিবাজীনগরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বোয়ারিং অ্যান্ড লেডি কার্জন হাসপাতালের দেওয়াল ঘিরেই মূলত এই বিপত্তি। স্থানীয় বিধায়ক রিজওয়ান আরশাদ জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ যখন বৃষ্টির তীব্রতা চরমে, তখনই হাসপাতালের কয়েক দশকের পুরনো দেওয়ালটির একাংশ ফুটপাথের ওপর আছড়ে পড়ে।
জানা গিয়েছে, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে হাসপাতালের দেওয়াল লাগোয়া ফুটপাথের অস্থায়ী প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন বেশ কিছু পথচারী ও হকার। ঠিক সেই সময়েই দেওয়ালটি হুড়মুড়িয়ে তাঁদের ওপর ভেঙে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েক দশকের পুরনো জীর্ণ দেওয়ালটির ওপর সম্প্রতি নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। বাড়তি ভার এবং বৃষ্টির জলের চাপ সহ্য করতে না পেরেই এই কাঠামোটি ধসে পড়েছে।
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মৃতদের মধ্যে রাস্তার হকার এবং পথচারীরা রয়েছেন। হাসপাতালটি জনবহুল এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন সেখানে কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা থাকে। বৃষ্টির সময় সাময়িক আশ্রয়ের খোঁজেই বিপদ ঘনিয়ে আসে দুর্ভাগা মানুষগুলোর জীবনে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ শেষ হলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রশাসনের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





