ভোট মিটতেই ভোলবদল! খুনে অভিযুক্ত বহিষ্কৃত নেতাকে সসম্মানে দলে ফেরাল তৃণমূল

ভোটের উত্তাপ কমতে না কমতেই উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচনের ঠিক পরেই এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা তথা উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করেন দমদম-ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তর ব্যারাকপুরে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, তুলসী অধিকারী নামে এক ৮০ বছরের বৃদ্ধকে মারধর করেন কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও তাঁর অনুগামীরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। সেই সময় ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এবং জনরোষ এড়াতে অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড বা বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। খোদ পার্থ ভৌমিক সে দিন এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছিলেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে এবং দীর্ঘদিন তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন।
কয়েক দিন আগেই জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। আর তিনি বাইরে আসতেই তাঁকে দলে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু হয়। বুধবার পার্থ ভৌমিক সাফাই দিয়ে জানান, “রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে খুনের কোনও সরাসরি অভিযোগ নেই। বিষয়টি আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখেছি। দলের সংগঠনের স্বার্থেই তাঁকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ভোট মিটতেই এই ‘প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে বিরোধীরা সুর চড়িয়েছে। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের সময় শান্ত ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই বহিষ্কারের নাটক করা হয়েছিল, এখন আবার সেই ‘বাহুবলী’ নেতাদেরই আশ্রয় দিচ্ছে শাসকদল। একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তকে এভাবে ক্লিনচিট দিয়ে দলে ফেরানোয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মনেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ এই ঘটনার পর কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।