বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো এক যুবককে। ধৃতের নাম রজত সিং। তিনি উত্তর কলকাতার দমদমের চিড়িয়ামোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশ্যাল অপারেশন টিমের অভিযানে কলকাতা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও নির্যাতিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে এক বান্ধবীর মাধ্যমে রজতের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। পরিচয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তরুণীর অভিযোগ, সেই সময় থেকেই রজত তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখায় এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তরুণী অন্ধভাবে রজতের ওপর ভরসা করেছিলেন এবং বিয়ের অপেক্ষায় ছিলেন।
কিন্তু কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর থেকেই রজতের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করেন তরুণী। তিনি যখন বিয়ের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন অভিযুক্ত যুবক নানাবিধ অজুহাতে এড়িয়ে যেতে শুরু করেন। শেষে তিনি স্পষ্টভাবে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে দেড় মাস আগে নির্যাতিতা বারুইপুর থানায় রজত সিংয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পরই অভিযুক্ত গা ঢাকা দেয়।
অভিযুক্তকে ধরার জন্য পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গতকাল রাতে কলকাতা থেকে রজতকে গ্রেফতার করে বারুইপুর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্ত রজত এর আগেও এমন কোনো প্রতারণামূলক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কি না বা তাঁর অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড আছে কি না।
সাম্প্রতিককালে রাজ্যে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বারুইপুরের এই ঘটনাটি সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।





