২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম-শিবিরের বিপুল জয়ের পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিজয়োৎসব। তবে মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিজয় মিছিল যে রূপ নিল, তা দেখে অনেকেই উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজার মডেল’-এর ছায়া দেখছেন। মঙ্গলবার কুলটির জয়ী বিজেপি প্রার্থী ডঃ অজয় পোদ্দার কয়েকশো সমর্থক নিয়ে রাস্তায় নামেন, যেখানে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিশালাকার এক বুলডোজার।
বুলডোজার নিয়ে বিজয় মিছিল
কুলটির লছমনপুর থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল বারিরা অতিক্রম করে সভানপুরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে শামিল হওয়া বিজেপি কর্মীদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বর্তমান রাজনীতিতে ‘বুলডোজার’ একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে, আর সেই বুলডোজার নিয়েই এদিন এলাকায় দাপট দেখালেন জয়ী বিধায়ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
জনগণের আস্থার প্রতিফলন
এই জয়ের পর ডঃ অজয় পোদ্দার ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই মিছিলকে সাধারণ মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের দাবি, কুলটির মানুষ তৃণমূলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে যে বিপুল জনমত দিয়েছেন, এই বিজয় মিছিল তারই উদযাপন। গোটা মিছিল জুড়ে কয়েকশো সমর্থক গেরুয়া আবির মেখে স্লোগানে স্লোগানে এলাকা মাতিয়ে রাখেন।
উত্তপ্ত পানিহাটি, ভাঙচুর তৃণমূল অফিসে
কেবল কুলটিই নয়, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও বিজয় মিছিলে বুলডোজার নিয়ে নামেন বিজেপি কর্মীরা। তবে উৎসবের আমেজ কিছুটা ম্লান হয় অশান্তির অভিযোগে। অভিযোগ উঠেছে, বিজয় মিছিল চলাকালীন একাধিক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে উত্তেজিত বিজেপি সমর্থকরা। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
পুলিশি তৎপরতা
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কুলটি এবং পানিহাটির স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল মিছিলের পুরো রুটটি। তবে বড়সড় কোনো অশান্তি না ঘটলেও বুলডোজারের উপস্থিতি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরণের চাপা উত্তেজনা তৈরি করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পালাবদলের পর ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ রাজ্যে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





