আগে থেকেই লিখে রেখেছিলেন, অভিষেক ম্যাচেই ৪-৫টি উইকেট নেবেন। আর মাঠে নেমে ঠিক সেটাই করে দেখালেন প্রফুল্ল হিঙ্গে। মরসুমের একটি ম্যাচও না হারা শক্তিশালী রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিলেন এই তরুণ পেসার। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়ের দাপটে প্রথম হারের স্বাদ পেল সঞ্জু স্যামসনরা।
স্বপ্ন যখন বাস্তব: ১৩ বছর বয়সে লেদার বলের ক্রিকেট কী, তা-ও জানতেন না হিঙ্গে। কিন্তু আইপিএলের মঞ্চে তাঁর দাপট দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটিই তাঁর প্রথম ম্যাচ। তিনি জানান, “আমি কোথাও লিখে রেখেছিলাম যে অভিষেক ম্যাচেই ৪-৫টি উইকেট নেব। পাওয়ার প্লে-তে দাপট দেখানোই আমার লক্ষ্য ছিল।” এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স তিনি তাঁর পরিবারকে উৎসর্গ করেছেন।
বৈভবকে আউট করার ‘মাস্টারপ্ল্যান’: চলতি মরসুমের অন্যতম সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করা যখন বোলারদের কাছে চ্যালেঞ্জ, তখন প্রফুল্ল আগে থেকেই তাঁর ডায়েরিতে ছক কষে রেখেছিলেন। বরুণ অ্যারনের সাথে মিলে তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন বৈভবকে বাউন্সারে বোকা বানাবেন। মাঠের ঠিক সেই রণকৌশলই কাজে লেগে যায়। এক ওভারেই ৩ উইকেট নিয়ে রাজস্থানের কোমর ভেঙে দেন তিনি।
সাকিব হোসেনের দাপট: প্রফুল্লের পাশাপাশি নজর কেড়েছেন আরেক তরুণ সাকিব হোসেন। মাত্র ২৪ রান খরচ করে তুলে নিয়েছেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সাকিব তাঁর এই কৃতিত্বের পুরোটা দিয়েছেন কোচ বরুণ অ্যারনকে। সাকিবের কথায়, “প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এমন একটি অভিষেক চায়। গত চার বছর ধরে কোচের সাথে কঠোর পরিশ্রমের ফল আজ পেলাম।”
অধিনায়ক ইশানের প্রশংসা: এসআরএইচ (SRH) অধিনায়ক ইশান কিষাণ দলের এই দুই তরুণ বোলারকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি জানান, এই প্লেয়াররা সারা মরসুম জুড়ে অনুশীলনে যে পরিশ্রম করেছেন, তারই সুফল আজ দল পেয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে বোলারদের সাথে সরাসরি কথা বলা এবং সঠিক গাইডেন্স দেওয়াটাই জয়ের চাবিকাঠি বলে মনে করেন ইশান।
রাজস্থান রয়্যালসের অপরাজিত থাকার দৌড় থামিয়ে দিয়ে আইপিএলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রফুল্ল হিঙ্গে ও সাকিব হোসেন। এই দুই তারকার উত্থান কি ভারতের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে? উত্তর দেবে সময়।





